প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৪:০০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছে এবং সে সময় অর্থের অভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত অসংখ্য মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আইনের শাসন, সবার জন্য সমান বিচারপ্রাপ্তি এবং ন্যায়বিচারকে রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বারোপ করেছেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
নিজের বন্দিজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
“বন্দিজীবনে এমন বহু মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, যারা কেবল আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আইনি সহায়তা নিতে পারেননি। দীর্ঘদিন ধরে বিচার না পেয়ে কারাগারে আটক ছিলেন।”
এ প্রসঙ্গে তিনি এ বাস্তবতাকে অতীব দুঃখজনক ও অন্যায্য বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন,
“একজন মানুষ অর্থের অভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার বড় দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে।”
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় আরও বলেন,
“ন্যায়বিচার কেবল আদালত বা আইনের বিষয় নয়। এটি একটি মানবিক, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তি। একটি রাষ্ট্র ও সমাজের অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও শান্তি নির্ভর করে ন্যায়বিচারের ওপর। মানুষ সবসময়ই একটি বৈষম্যহীন সমাজ চেয়েছে, যেখানে সবাই সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারে। সেই লক্ষ্যে সমতা, সহমর্মিতা এবং পারস্পরিক আস্থা অপরিহার্য উপাদান।”
তিনি বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করেন, যেখানে সকল নাগরিকের আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও সমান আইনি সুরক্ষার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই সাংবিধানিক বিধান জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের সপ্তম অনুচ্ছেদের প্রতিফলন। এলাকায় এসে তিনি বলেন,
“‘এক্সেস টু জাস্টিস’ প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। অর্থের অভাবে কেউ আইনের আশ্রয় বা ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত হবে এটি কোনোভাবেই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কাম্য নয়।”
তারেক রহমান আরও বলেন,
“যে রাষ্ট্রে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকার নিশ্চিত হয় না, সেই রাষ্ট্র কখনোই প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।”
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনব্যবস্থার অবসানের পর বাংলাদেশ নতুন করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে এবং এই যাত্রাকে সুসংহত করতে হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। দিবসটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন