প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার অথবা নতুন চুক্তিতে আসার কঠোর সময়সীমা (ডেডলাইন) বেঁধে দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ‘বিধ্বংসী হামলা’র হুমকি দিয়েছেন তিনি। তবে তেহরান এখন পর্যন্ত নমনীয় হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখায়নি, বরং পাল্টা প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান এবার গতানুগতিক কোনো রক্ষণাত্মক পথে হাঁটবে না। তাদের মূল রণকৌশল হলো ‘লেয়ার্ড এসিমেট্রি’, যার উদ্দেশ্য যুদ্ধের ব্যয় ও ক্ষয়ক্ষতিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাতে বিশ্ব অর্থনীতি নিজেই পতনের মুখে পড়ে। সময়সীমা পেরিয়ে গেলে ইরান মূলত পাঁচটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
১. অর্থনৈতিক ও ডিজিটাল বিপর্যয় (ডিজিটাল আরমাগেডন): ইরান হরমুজ প্রণালিতে স্মার্ট মাইন ও জিপিএস জ্যামিং ব্যবহার করে পুরো রুটটিকে ‘কিল জোন’-এ পরিণত করার ক্ষমতা রাখে। একটি তেলবাহী ট্যাংকার ডুবলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর পাশাপাশি লোহিত সাগরের তলদেশে থাকা ফাইবার অপটিক ক্যাবল বিচ্ছিন্ন করে এশিয়া ও ইউরোপের ইন্টারনেট ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা অচল করে দেওয়ার হুমকিও রয়েছে, যা বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় মহাবিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
২. আঞ্চলিক অবকাঠামো ও পানি সংকট: ইরানের যুদ্ধনীতি হলো—নিজেদের তেল রপ্তানি বন্ধ হলে অন্যদেরও তা করতে দেবে না। তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের তেল ও পানি শোধন কেন্দ্রগুলো। এসব কেন্দ্রে হামলা হলে উপসাগরীয় দেশগুলোর বড় শহরগুলোতে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র পানি সংকট দেখা দিতে পারে।
৩. আধুনিক সাইবার যুদ্ধ: ইরানের সাইবার যোদ্ধা গ্রুপ ‘হান্দালা’ ইতিমধ্যে সক্রিয়। তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ গ্রিড, স্বাস্থ্যসেবা ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হানা দিতে পারে। এছাড়া মাঝ সমুদ্রে জাহাজের জিপিএস সংকেত বিকৃত করে বড় ধরনের নৌ-দুর্ঘটনা ঘটানোর সক্ষমতাও তাদের রয়েছে।
৪. ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’-এর সক্রিয়তা: ইরান তার আঞ্চলিক মিত্রদের মাধ্যমে বহুমাত্রিক ফ্রন্ট খুলে দিতে পারে। ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা, ইয়েমেনের হুথিদের মাধ্যমে লোহিত সাগর অবরোধ এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর মাধ্যমে ইসরায়েলের ওপর সাঁড়াশি আক্রমণ চালানোর প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
৫. মার্কিন কূটনৈতিক জোটে ফাটল: কৌশলগতভাবে ইরান চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের জাহাজগুলোকে ‘সেফ প্যাসেজ’ বা নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ দিয়ে ওয়াশিংটনের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটে বিভেদ তৈরি করতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সামরিকভাবে হারানো নয়; বরং মার্কিন বিজয়কে এতটাই ব্যয়বহুল ও ধ্বংসাত্মক করে তোলা যাতে পুরো বিশ্ব এক অভাবনীয় সংকটে নিপতিত হয়। ট্রাম্পের দেওয়া এই ডেডলাইন তাই এখন বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য এক বিশাল অগ্নিপরীক্ষা।
মন্তব্য করুন