বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৪:৪৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

স্ত্রীর মৃত্যুর পর বক্তব্য বদল, সমালোচনার মুখে অভিনেতা যাহের আলভী

স্ত্রীর মৃত্যুর পর প্রথমে শোক ও আবেগের কথা বললেও কয়েক দিনের মধ্যে বক্তব্যের সুর বদলে যাওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভী। এবার তিনি প্রয়াত স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা–র বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় মারা যান ইকরা। ঘটনার সময় আলভী নেপালে শুটিংয়ে ছিলেন বলে জানান। সেদিন ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, তাঁর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন এবং খবরটি শোনার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

এরপর ২ মার্চ ফেসবুক লাইভে এসে স্ত্রীকে হারানোর শোক প্রকাশ করেন আলভী। ৩ মার্চ দেওয়া আরেকটি পোস্টে প্রয়াত স্ত্রীকে ‘ইকলি’ বলে সম্বোধন করে আবেগঘন বার্তা লিখেছিলেন তিনি। সেই পোস্ট দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি দীর্ঘ পোস্টে আলভী উল্টো ইকরার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি নেপালে যাওয়ার পর ২৫ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইকরা বাসায় বন্ধুদের নিয়ে পার্টি করেছিলেন এবং সেখানে মদ্যপান হয়েছিল। এমনকি ঘটনার আগের দিন ইকরা তাঁর সহকারীকে দিয়ে সিগারেট ও ঘুমের ওষুধ আনিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টে আলভী আরও বলেন, যদি ঘটনার আগে মদ্যপান বা মাদক গ্রহণ হয়ে থাকে, তাহলে তা পোস্টমর্টেম রিপোর্টে উঠে আসা উচিত। তিনি পোস্টমর্টেম রিপোর্ট যেন কোনোভাবেই পরিবর্তন না করা হয়—সেজন্য সবার নজরদারি কামনা করেন।

এ ছাড়া তিনি দাবি করেন, তাঁদের বাসার ড্রইং–কাম–ডাইনিং এলাকায় একটি সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল, যার নিয়ন্ত্রণ তাঁর কাছে ছিল না এবং সেটি ইকরার ফোনের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। বর্তমানে সেই ফোন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। ওই সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার আগের কয়েক দিনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে বলেও দাবি করেন আলভী।

দীর্ঘ পোস্টে দাম্পত্য জীবনের অতীত নিয়েও কথা বলেন তিনি। আলভীর দাবি, ২০১০ সালে তারা পালিয়ে বিয়ে করেন। পরে পারিবারিক জটিলতার কারণে ইকরার অন্যত্র বিয়ে হলেও পরবর্তীতে আবার তাদের সংসার শুরু হয়।

স্ত্রীর মৃত্যুর পর প্রথমে আবেগঘন শোকবার্তা এবং পরে প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলার এই বিপরীতমুখী অবস্থান ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, একটি সংবেদনশীল ঘটনার পর প্রয়াত একজন মানুষের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলা নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

মন্তব্য করুন