প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৪:৫৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পরই দুবাইভিত্তিক দুই ভারতীয় উদ্যোক্তা তাদের ব্যাংক হিসাব থেকে এক লাখ ডলারের বেশি সম্পদ সিঙ্গাপুরে স্থানান্তরের চেষ্টা করেন। তবে প্রথম প্রচেষ্টা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ব্যর্থ হয়। পরে একজন অন্য একটি এমিরেটসভিত্তিক ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করতে সক্ষম হন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বা ভাবছে আরও অনেক ধনী এশীয়, যারা দুবাইয়ে রাখা সম্পদ সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের মতো আঞ্চলিক আর্থিক কেন্দ্রগুলোতে স্থানান্তর করতে চাইছেন। কারণ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরানের সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপদ জায়গার খ্যাতি ম্লান করেছে এবং বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করেছে।
গত কয়েক বছরে দুবাই ধনী উদ্যোক্তা ও পরিবারদের জন্য প্রিয় গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে। নিরাপত্তা, করছাড় এবং উচ্চমানের জীবনযাত্রা বিশেষ করে চীনা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের মোট সম্পদ দেড় ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রাইভেট ওয়েলথ আইনজীবী রায়ান লিন জানিয়েছেন, দুবাইভিত্তিক ২০ জন গ্রাহকের মধ্যে ছয়-সাতজন সম্পদ স্থানান্তরের বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এদের মধ্যে তিনজন তাৎক্ষণিকভাবে সম্পদ স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছেন। তাদের একেকজনের গড় সম্পদ পাঁচ কোটি ডলার।
আন্তর্জাতিক কর ও আইনি পরিষেবা প্রতিষ্ঠান আন্ডারসন গ্লোবালের প্রধান আইরিস জু বলেন, ১০-২০টি ধনী পরিবারের অফিস এই সপ্তাহে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাদের সম্পদ সিঙ্গাপুরে সরানোর বিষয়ে ভাবছে, কারণ তারা মনে করছেন যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
যদিও সব ধনী বিনিয়োগকারী তাৎক্ষণিকভাবে সম্পদ স্থানান্তর করছেন না। দুবাইভিত্তিক ডব্লিউআরআইএসই প্রাইভেট মিডল ইস্টের সিইও ধ্রুব জ্যোতি সেনগুপ্ত বলেন, গ্রাহকরা আমিরাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার ওপর আত্মবিশ্বাসী। তাই গুরুতর পুঁজি স্থানান্তরের আলোচনা এখনও হয়নি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর খালেদ মোহাম্মদ বালামা জানিয়েছেন, দেশটির ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত দৃঢ়, শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানিগুলো স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ব্যাংক অব সিঙ্গাপুর এবং ডিবিএস গ্রুপ জানিয়েছে, গ্রাহকরা আপাতত অঞ্চলের পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং অপেক্ষার নীতি অনুসরণ করছেন।
মন্তব্য করুন