প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৩:৫৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে আজ সোমবারও জ্বালানি তেল কিনতে দীর্ঘ লাইনের দৃশ্য দেখা গেছে। অনেক পাম্পে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে যেসব পাম্পে তেল নেই সেখানেও আশায় অপেক্ষা করছেন মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও অন্যান্য যানবাহনের চালকেরা।
চালকদের ভাষ্য, অনেকের গাড়ির তেল প্রায় শেষ বা একেবারে ফুরিয়ে গেছে। তাই অন্য পাম্পে যাওয়ার মতো অবস্থাও নেই। পাম্প ছেড়ে গেলে গাড়ি ঠেলে নিতে হতে পারে। এ কারণে তেল না থাকলেও অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। অন্যদিকে যেসব পাম্পে জ্বালানি তেল বিক্রি চলছে, সেসব জায়গায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেক চালক দেড় থেকে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।
আজ সকালে মিরপুর, কল্যাণপুর, মোহাম্মদপুর, বিজয়সরণি ও কালশী এলাকার অন্তত নয়টি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, এর মধ্যে তিনটিতে তেল বিক্রি বন্ধ ছিল। একটি পাম্পে শুধু ডিজেল এবং আরেকটিতে শুধু অকটেন বিক্রি হচ্ছিল। বাকি চারটিতে সীমিত পরিমাণে ডিজেল ও অকটেন বিক্রি করা হয়।
সকাল ৯টার দিকে মিরপুর–২ নম্বর এলাকার স্যাম অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড পাম্পের প্রায় ৩০০ মিটার আগে থেকেই যানবাহনের লম্বা সারি দেখা যায়। ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের সামনে থেকে প্রাইভেট কার ও অন্যান্য যানবাহনের সারি শুরু হয়ে সামনে গিয়ে মোটরসাইকেলের লাইনও দেখা যায়। তবে পাম্পের সামনে গিয়ে জানা যায়, সেখানে জ্বালানি তেল নেই এবং বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।
পাম্পের নিরাপত্তাকর্মীরা জানাচ্ছিলেন, ডিপো থেকে তেলের গাড়ি না আসা পর্যন্ত বিক্রি শুরু করা সম্ভব নয়। পাম্পটির ক্যাশিয়ার আরাফাত স্বপ্নীল বলেন, রোববার বিকেলে প্রায় সাড়ে চার হাজার লিটার অকটেন পাওয়া গিয়েছিল, যা রাত সাড়ে ১০টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে পাম্পটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ওই পাম্পের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মোটরসাইকেলচালক সেলিম মিয়া। তিনি একটি অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সেবা চালান। সেলিম মিয়া বলেন, “দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি, তেল বিক্রি করছে না। অন্য পাম্পে যাওয়ারও উপায় নেই। বাইক ঠেলতে হবে। রোজা রেখে বাইক ঠেলে নেওয়া সম্ভব না।”
কল্যাণপুরের খালেক ফিলিং স্টেশনেও জ্বালানি তেল বিক্রির অংশ বন্ধ দেখা গেছে। সেখানে শুধু সিএনজি গ্যাস বিক্রি হচ্ছিল। একই অবস্থা ছিল পাশের কমফোর্ট ফিলিং অ্যান্ড সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনেও। পাম্পটির প্রবেশপথে ‘তেল নাই’ লেখা একটি স্ট্যান্ড টাঙিয়ে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে আসাদগেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ও অকটেন বিক্রি চলছিল। তবে সেখানে পাম্পে ঢোকার আগেই প্রায় সোয়া এক কিলোমিটার দীর্ঘ প্রাইভেট কারের লাইন দেখা যায়। সকাল ১০টার দিকে ব্যক্তিগত গাড়ির চালক মহসিন হোসেন জানান, তিনি সকাল ৯টার কিছু আগে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন এবং প্রায় এক ঘণ্টা পরও সামনে মাত্র কয়েকটি গাড়ি বাকি ছিল। তিনি বলেন, সংকট শুরুর পর আজই প্রথম তেল নিতে এসেছেন।
ওই পাম্পের ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ আজম জানান, আগের রাতে দুই গাড়িতে প্রায় ২৭ হাজার লিটার অকটেন এসেছিল। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার লিটার বিক্রি হয়ে গেছে এবং আরও সাত হাজার লিটার রয়েছে। এটি শেষ হয়ে গেলে নতুন করে তেল না এলে বিক্রি বন্ধ করতে হতে পারে।
শেওড়াপাড়া এলাকার কাছে দুটি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে মেসার্স সবুর ফিলিং স্টেশন বন্ধ ছিল। পাশের এ এস ফিলিং স্টেশনে শুধু ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছিল। নিরাপত্তাকর্মীরা জানাচ্ছিলেন, সেখানে পেট্রল ও অকটেন নেই।
সবচেয়ে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে বিজয়সরণি এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে। বেলা পৌনে ১১টার দিকে ওই পাম্প থেকে জ্বালানি নিতে প্রায় দেড় কিলোমিটারের বেশি লম্বা প্রাইভেট কারের সারি দেখা যায়। ব্যক্তিগত গাড়ির লাইন জাহাঙ্গীরগেট পেরিয়ে মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত চলে যায়। মোটরসাইকেলের সারি ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূল ফটক পর্যন্ত।
একই সময়ে কালশীর সুমাত্রা ফিলিং স্টেশনের সামনেও দীর্ঘ সারি দেখা যায়। সেখানে পাম্প থেকে শুরু হয়ে প্রাইভেট কারের লাইন ইসিবি চত্বর পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
মন্তব্য করুন