আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:২৪ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

পরমাণু চুক্তি ছাড়া নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে: ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের দেওয়া নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।

বর্তমানে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ যুদ্ধবিরতি চলছে। কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের কঠোর নজরদারির বিপরীতে মার্কিন নৌ-অবরোধ কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন প্রেক্ষাপটে গত সোমবার হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করে, ট্রাম্প ও তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দল যুদ্ধ সমাপ্তির জন্য ইরানের একটি নতুন প্রস্তাব পেয়েছেন, যদিও কোনো পক্ষই প্রস্তাবটির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।

তবে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, প্রস্তাবটিতে যুদ্ধাবসানের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলা হয় এবং তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী তারিখে করার কথা উল্লেখ থাকে। ট্রাম্প এ প্রস্তাবে ‘অসন্তুষ্ট’ বলে জানা গেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, দুই মাস ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের অবসানে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরান যতক্ষণ না তার পরমাণু কর্মসূচি ত্যাগ করতে এবং ওয়াশিংটনের উদ্বেগের সমাধান করতে রাজি হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো শান্তি চুক্তি হবে না এবং নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে।

গত বুধবার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিপাবলিকান এ নেতা দাবি করেন, ইরান অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে চাইছে, যা তাঁর মতে ‘বোমা হামলার চেয়েও বেশি কার্যকর’।

ট্রাম্প বলেন, ‘বোমাবর্ষণের চেয়ে অবরোধটা কিছুটা বেশি কার্যকর। তাদের দমবন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে চলেছে। ওরা পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না।’

মার্কিন অবরোধের ফলে তেহরান অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করতে না পারায় সেখানকার তেল সংরক্ষণাগার ও পাইপলাইন ‘বিস্ফোরণের দ্বারপ্রান্তে’ পৌঁছে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা এখন মীমাংসা করতে চায়। তারা চায় না আমি অবরোধটা অব্যাহত রাখি। তবে আমি অবরোধ তুলতে চাই না, কারণ আমি চাই না ওদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকুক।’ ইরানের সঙ্গে ফোনে আলোচনা চলছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর এখন হার মেনে নেওয়ার এবং ‘আমরা আত্মসমর্পণ করছি’ বলার সময় এসেছে। তাঁর ভাষায়, ‘প্রশ্ন হলো, তারা যথেষ্ট কঠোর হবে কি না। এই মুহূর্তে কোনো চুক্তি হবে না, যদি না তারা পারমাণবিক অস্ত্র না থাকার বিষয়ে একমত হয়।’

মন্তব্য করুন