আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:০৯ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

হরমুজ প্রণালিতে স্থবিরতা, আটকা দুই হাজার জাহাজ—বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অচলাবস্থা বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক উদ্বেগ আরও তীব্র করে তুলেছে। জ্বালানি তেল সরবরাহের এই প্রধান রুটে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় দুই হাজার জাহাজ ও ২০ হাজার নাবিক পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছেন, কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই জলপথ কার্যত স্থবির।

গত মার্চে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বীমা কোম্পানিগুলো হরমুজ প্রণালিকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করে ট্যাংকার জাহাজের ‘যুদ্ধ ঝুঁকি বীমা’ বাতিল করে দেয়। ফলে অনেক জাহাজ চলাচলের অনুমতি থাকলেও বীমা না থাকায় বাস্তবে যাত্রা বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, জলপথে পেতে রাখা নৌ-মাইন অপসারণে অন্তত ছয় মাস প্রয়োজন। এর আগে পুরোপুরি নিরাপদে জাহাজ চলাচল সম্ভব নয়।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ভবিষ্যতে মাইন সরানো গেলেও বীমা খরচ দীর্ঘদিন উচ্চ থাকবে। স্থায়ী কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক সমঝোতা না হলে এ অনিশ্চয়তা কাটার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ২০ শতাংশের বেশি এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করায় দীর্ঘস্থায়ী এ সংকট বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের নাবিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযানে যায়নি। তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘তোস্কা’ থেকে ইতোমধ্যে ছয় ইরানি নাবিককে মুক্ত করা হয়েছে। তেহরানের দাবি, তাদের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এ মুক্তি সম্ভব হয়েছে।

২৯ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি মার্কিন নৌবাহিনী ওমান উপসাগরে ইরানগামী জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেয়, যাতে ২৮ ইরানি নাবিক ছিলেন। ইরান এ ঘটনাকে ‘দস্যুতার শামিল’ বলে উল্লেখ করেছে।

তেহরান শুরু থেকেই জানিয়েছিল, নাবিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে তারা সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে এবং ‘আনুষ্ঠানিক ও কূটনৈতিক পথে’ তাদের মুক্তির চেষ্টা চালাবে। বর্তমানে ছয় নাবিক দেশে ফিরলেও বাকি ২২ জন এখনও যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন। তাদের মুক্তির জন্য ইরানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জারি আছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

মন্তব্য করুন