রিয়াদ হোসাইন লাকসাম কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫১ মিনিট আগে, ০৬:৩৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

লাকসামে বায়নাকৃত জমি জবরদখল ও প্রবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

কুমিল্লার লাকসামে দুবাই প্রবাসীর বায়নাকৃত জমি জবরদখল, অবৈধ পাকা ঘর নির্মাণ এবং হয়রানিমূলক মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী দুবাই প্রবাসী মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে প্রবাসী হাবিবুর রহমান জানান, তিনি গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে লাকসাম উপজেলার ফুলগাঁও পূর্ব-বাজার চৌমুহনী রোড সংলগ্ন ১২.৭৫ শতক জমি স্থানীয় বাসিন্দা আলেয়া বেগমের নিকট থেকে বায়না সূত্রে ক্রয় করেন। বায়না সম্পন্ন হওয়ার পর বিক্রেতা আলেয়া বেগম তাকে জমির দখল বুঝিয়ে দেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে ফুলগাঁও বাজার কমিটির সভাপতি গিয়াস উদ্দিনের নিকট নিয়মমাফিক ৪০০ টাকা ফি জমা দিয়ে জমি পরিমাপের আবেদন করা হয়। বাজার কমিটির মনোনীত দুই প্রতিনিধি আলা উদ্দিন ও লাট্টুর উপস্থিতিতে সার্ভেয়ার মোস্তাক আহমেদ ও মো. আব্দুল হান্নান জমিন পরিমাপ সম্পন্ন করেন এবং উপস্থিত লোকজনের স্বাক্ষরে ট্রেসিং প্রস্তুত করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, সীমানা নির্ধারণ ও পরিমাপ সম্পন্ন হওয়ার পর ফুলগাঁও গ্রামের সৈয়দুজ্জামানের ছেলে আবু বকর গং (সহযোগী শিহাব, আলম ও শাহিন) কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই জোরপূর্বক ওই জমিতে প্রবেশ করে ঘর নির্মাণ শুরু করেন। নির্মিত ওই ঘরের তিন ভাগের দুই ভাগই আলেয়া বেগমের বায়নাকৃত জমির অন্তর্ভুক্ত। বিষয়টি বাজার কমিটির সভাপতিকে জানানো হলে তিনি আবু বকরকে কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিলেও তিনি তা অমান্য করে জোরপূর্বক নির্মাণকাজ চালিয়ে যান।
ভুক্তভোগী প্রবাসী আরও জানান, জমির প্রকৃত মালিক আলেয়া বেগম আদালতের শরণাপন্ন হলে বিজ্ঞ আদালত জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আবু বকর বাদী হয়ে প্রবাসী হাবিবুর রহমান, তার ভাই শাহাদাত, জমি বিক্রেতা আলেয়া বেগম ও তার স্বামী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করেন। এছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকায় কিছু লোকজনকে হাত করে কোনো ভিত্তি ছাড়াই মিথ্যা মানববন্ধন করে প্রবাসীর পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মানহানি করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে স্থানীয় ভূমি অফিস থেকে এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার ভূমি) মহোদয় ঘটনাস্থল তদন্ত করেছেন এবং আবু বকরের দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাটি বর্তমানে পিবিআই (PBI) তদন্তাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জমিটির মূল মালিক আলেয়া বেগম, তার স্বামী রফিকুল ইসলাম, বাজার কমিটির প্রতিনিধি আলাউদ্দিন, লাট্টু, মাহবুবুল হকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ভুক্তভোগী প্রবাসী ও স্থানীয়রা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জবরদখলমুক্তকরণ এবং মিথ্যা মামলার হয়রানি থেকে মুক্তির জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

মন্তব্য করুন