প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০১:২৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দেশটির বিচার বিভাগের প্রকাশ করা নথিতে শ্রেণিবদ্ধ তথ্যের উল্লেখ এবং বিপুলসংখ্যক পৃষ্ঠার নম্বরের ধারাবাহিকতায় অসংগতি পেয়েছে সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। তবে এসব অসংগতি ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করার কারণে, নাকি নথি পর্যালোচনার সময় পুনরাবৃত্তি বাদ দেওয়া ও ভুলের ফলে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত সিবিএস নিউজের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপস্টেইন-সংক্রান্ত অন্তত তিনটি নথিতে শ্রেণিবদ্ধ তথ্যের উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে একটি নথি থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চে তৎকালীন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চের দপ্তরে এপস্টেইন-সম্পর্কিত শ্রেণিবদ্ধ উপকরণ পাঠানো হয়েছিল।
ব্ল্যাঞ্চ এর আগে বলেছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এপস্টেইন-সংক্রান্ত কোনো নথি আটকে রাখা বা সম্পাদনা করে প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু নতুন অনুসন্ধানে ঠিক কোন তথ্য শ্রেণিবদ্ধ ছিল, কিংবা সেগুলো প্রকাশিত নথির বাইরে রাখা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হয়নি।
মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এপস্টেইন-সংক্রান্ত প্রায় ৬০ লাখ পৃষ্ঠার উপকরণ সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠা প্রকাশ করা হয়েছে। বিভাগটি জানিয়েছে, পুনরাবৃত্ত নথি, আইনজীবী-মক্কেলের গোপনীয়তার আওতাভুক্ত উপকরণ এবং মামলার সঙ্গে সম্পর্কহীন নথি পর্যালোচনা করে বাদ দেওয়া হয়েছে।
নথির নম্বর বিশ্লেষণ করে সিবিএস নিউজ আর্থিক নথি ও ইমেইলের ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের ফাঁক শনাক্ত করেছে। এপস্টেইনের ব্যাংক হিসাবের প্রায় ৪ হাজার ৫০০টি চেকের ছবির মধ্যে ৬৬টি ছবির অনুপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কিছু নথির পুরোনো নম্বরের সঙ্গে প্রকাশিত পাতার নম্বরেরও অসংগতি রয়েছে।
সাবেক মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটর বারবারা ম্যাককুয়েড সিবিএস নিউজকে বলেন, আর্থিক নথি বাদ দেওয়া অনুমোদিত কোনো শ্রেণির মধ্যে পড়ে না। তবে নম্বরের ধারাবাহিকতায় ফাঁক থাকলেই কোনো নথি ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
ইমেইলের নম্বরের ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করেও বিপুলসংখ্যক পৃষ্ঠার সম্ভাব্য ঘাটতি শনাক্ত করেছে সিবিএস নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের পর্যালোচনার সময় ব্যবহৃত নম্বরের সঙ্গে চূড়ান্ত প্রকাশিত নথির নম্বরের তুলনায় প্রায় ১২ লাখ পৃষ্ঠার ব্যবধান পাওয়া গেছে। তবে এই ব্যবধানের সবটাই গোপন করা নথির কারণে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। ইমেইলের পুনরাবৃত্ত অংশ বাদ দেওয়া কিংবা পর্যালোচনার সময় ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এদিকে, আরও নথি প্রকাশ এবং তথ্য গোপন বা বাদ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যার দাবিতে স্বাধীন সাংবাদিক কেটি ফ্যাং বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলাটিতে নথি পর্যালোচনা ও বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার দাবি তোলা হয়েছে। বিচার বিভাগ কয়েকটি আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে বলে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে।
বিচার বিভাগ এর আগে এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের প্রক্রিয়ায় কিছু ভুলের কথা স্বীকার করেছে। তবে সিবিএস নিউজের নতুন অনুসন্ধান নিয়ে তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। বিভাগটির বক্তব্য, আইন অনুযায়ী প্রকাশযোগ্য নথি প্রকাশ করা হয়েছে এবং বাকি উপকরণের কিছু পুনরাবৃত্ত, অপ্রাসঙ্গিক বা আইনগত গোপনীয়তার আওতাভুক্ত।
নথির নম্বরে অসংগতি এবং শ্রেণিবদ্ধ উপকরণের উল্লেখ এপস্টেইন-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। তবে ঠিক কী তথ্য বাদ পড়েছে এবং কেন তা প্রকাশ করা হয়নি, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
সূত্র: সিবিএস
মন্তব্য করুন