স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০১:৩৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

সিটিকে দুই হাতে বাঁচালেন আর্জেন্টাইন গোলকিপার

পেনাল্টি অনুশীলন না করেও কারাবাও কাপের শেষ ষোলোতে ব্রাইটনকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ম্যানচেস্টার সিটি। বুধবার রাতে নির্ধারিত সময়ের খেলা ২–২ গোলে ড্র হওয়ার পর পেনাল্টি শুটআউটে ৪–৩ ব্যবধানে জেতে পেপ গার্দিওলার উত্তরসূরি এনজো মারেসকার দল। জয়ের নায়ক গোলরক্ষক হেরোনিমো রুই, যিনি শুটআউটে ব্রাইটনের শেষ দুটি শট ঠেকিয়ে দেন।

গত জুনে পেপ গার্দিওলার জায়গায় ম্যানচেস্টার সিটির কোচের দায়িত্ব নেন মারেসকা। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে খেলোয়াড়দের পেনাল্টি অনুশীলনের বিপক্ষে ছিলেন তিনি। ম্যাচ শেষে সেই অবস্থানের কথাই স্বীকার করে সিটি কোচ বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি (সিটিতে) আসার পর কখনো পেনাল্টি অনুশীলন করিনি।’

নির্ধারিত সময়ে ব্রাইটনের বিপক্ষে ২–২ গোলে ড্র করার পর পেনাল্টি শুটআউটেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। দ্বিতীয়ার্ধে রুই নিশ্চিত একটি গোল ঠেকিয়ে সিটিকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। পরে শুটআউটে ব্রাইটনের শেষ দুটি শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আটকে দিয়ে দলকে জয় এনে দেন আর্জেন্টাইন এই গোলরক্ষক।

নিয়মিত গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মাকে বিশ্রাম দেওয়ায় একাদশে সুযোগ পান রুই। তাঁর পারফরম্যান্সের পর দোন্নারুম্মার জায়গা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মারেসকা বলেন, ‘না, আমার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে একদমই না। রুই জানে তার ভূমিকাটা কী। আগামী শনিবার দোন্নারুম্মার সঙ্গে ১০ জনই মাঠে নামবে।’

শনিবার প্রিমিয়ার লিগে আবারও ব্রাইটনের মুখোমুখি হবে সিটি। ২০১৬–১৭ মৌসুমে সিটিতে খেললেও মূল একাদশে নিয়মিত সুযোগ পাননি রুই। গত আগস্টে মার্শেই থেকে ক্লাবে ফেরেন ৩৪ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। তাঁকে মূলত দোন্নারুম্মার বিকল্প হিসেবে আনা হলেও পেনাল্টি ঠেকানোর দক্ষতাও ছিল তাঁকে ফেরানোর অন্যতম কারণ।

দোন্নারুম্মার জায়গায় খেলেও রুই শুধু শুটআউটেই নয়, বল পায়ে আক্রমণ গড়ার ক্ষেত্রেও ভালো করেছেন বলে মনে করেন মারেসকা। সিটি কোচ বলেন, ‘পেনাল্টি ছাড়াও বিল্ডআপে সামগ্রিকভাবে সে বেশ ভালো করেছে। কাজটা মোটেও সহজ ছিল না। কারণ, ওরা ম্যান-টু-ম্যান এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে।’

পেশাদার ক্যারিয়ারে এ নিয়ে ২০টি পেনাল্টি ঠেকানোর কৃতিত্ব রুইয়ের। এর মধ্যে ১৫টি নির্ধারিত সময়ে এবং পাঁচটি শুটআউটে। ২০২১ সালের ইউরোপা লিগের ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে শুটআউটে গোল করার পর প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক দাভিদ দে হেয়ার শট ঠেকিয়ে ভিয়ারিয়ালকে শিরোপা জেতাতে সাহায্য করেছিলেন তিনি।

ম্যাচে পেনাল্টি মিস করেন সিটির মাতেও কোভাচিচ। তবে কোচ তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘কোভাচিচসহ পাঁচজনের পারফরম্যান্সে আমরা খুশি। ফুটবল মাঠে এটা প্রায়ই ঘটে—যে খেলোয়াড় নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল করেন, তিনিই আবার পেনাল্টি মিস করে বসেন।’

এর আগে গত শনিবার অ্যাস্টন ভিলার কাছে হেরে প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের শতভাগ জয়ের ধারা হারায় সিটি। ওই ম্যাচে দোন্নারুম্মার ভুলে ভিলার দ্বিতীয় গোলটি হজম করতে হয় দলকে। ম্যাচ শেষে মারেসকাও স্বীকার করেন, দোন্নারুম্মা কিছু ভুল করেছেন। তবে ব্রাইটনের বিপক্ষে রুইয়ের পারফরম্যান্সের পরও শনিবারের ম্যাচে দোন্নারুম্মাকেই খেলানোর কথা জানিয়েছেন সিটি কোচ।

অ্যানফিল্ডে চেলসিকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে লিভারপুল

কারাবাও কাপের শেষ ষোলোতে আরেকটি ম্যাচও গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। অ্যানফিল্ডে চেলসির সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১–১ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৬–৫ ব্যবধানে জেতে লিভারপুল।

Chelsea Football Club+1

ম্যাচে চেলসিকে এগিয়ে দেন মর্গান রজার্স। পরে পেনাল্টি থেকে গোল করে লিভারপুলকে সমতায় ফেরান কোডি গাকপো। নির্ধারিত সময়ে আর গোল না হওয়ায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় শুটআউটে। শেষ পর্যন্ত ওয়েসলি ফোফানার শট বাইরে চলে গেলে জয় নিশ্চিত হয় লিভারপুলের।

Chelsea Football Club+1

এই জয়ে চেলসির বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউটে টানা পঞ্চমবার জিতল লিভারপুল। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ বোর্নমাউথ।

মন্তব্য করুন