মোঃ নাজমুল হুদা

প্রকাশিত: ৫৮ মিনিট আগে, ১২:৪৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের নির্দেশের ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পাওয়ার ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা বাহিনীর। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ২৫ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য অভিযান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক শক্তি ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন করে হামলা হলে তা ইরানের রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ না-ও থাকতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনাও রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘এটি বড় ধরনের অভিযান হবে।’ সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার ধারণা, ট্রাম্প সামরিক অভিযানের অনুমোদন দেবেন কি না, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কবে তিনি সেই নির্দেশ দেবেন। তাঁদের ধারণা, চলতি বছরের শেষ হওয়ার আগেই অভিযান শুরুর নির্দেশ আসতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এ সম্ভাবনা বেশি বলে তাঁরা মনে করছেন।

পাল্টা হামলার আশঙ্কা

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সামরিক বাহিনী এখন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে আগের চেয়ে বেশি জানে। ফলে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করা মার্কিন বাহিনীর জন্য কঠিন হতে পারে। তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ও পেন্টাগন বিস্তৃত লক্ষ্যবস্তুর তালিকা তৈরি করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, তিনি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের দিকে ঝুঁকছেন। অতীতে তাঁকে কোনো পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পরে শেষ মুহূর্তে সরে আসতেও দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এদিকে, সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে ইরান এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা পাল্টা আঘাত হানতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও স্থাপনার পাশাপাশি অন্য অঞ্চলও সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকিতে থাকতে পারে বলে গোয়েন্দা মূল্যায়নে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের দূতাবাস থেকে কিছু কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপও নিয়েছে। সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের জরুরি নয়—এমন কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সৌদি আরবে কর্মী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশটি হুথিদের হামলার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।

সূত্র: সিএনএন

 

 

মন্তব্য করুন