লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫০ মিনিট আগে, ০৪:৩১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

একটি পরীক্ষার ফল নয়, সন্তানের সবচেয়ে বড় ভরসা হোন

এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ, উৎকণ্ঠা ও প্রত্যাশা—সবকিছুরই মিশ্র অনুভূতি কাজ করে। কাঙ্ক্ষিত ফল পেলে পরিবারে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়। অন্যদিকে, ফল আশানুরূপ না হলে অনেক শিক্ষার্থী হতাশায় ভেঙে পড়ে, আর দিশেহারা হয়ে পড়েন অভিভাবকেরাও।

বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় এইচএসসির ফলাফলকে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ কারণে প্রত্যাশিত ফল না পেলে অনেক শিক্ষার্থীকে সামাজিক চাপ ও পরিবারের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হয়। তবে এমন সময়ে বকাঝকা বা দোষারোপের পরিবর্তে সন্তানের পাশে দাঁড়ানোই অভিভাবকদের সবচেয়ে জরুরি দায়িত্ব।

বিশেষজ্ঞ পরামর্শের আলোকে, ফল খারাপ হলে সন্তানের মানসিক চাপ কমাতে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সহায়তা করতে অভিভাবকদের কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বকাঝকা ও নেতিবাচক মন্তব্য থেকে বিরত থাকা

ফল প্রত্যাশামতো না হলে অনেক অভিভাবক রাগের মাথায় সন্তানকে বলেন, ‘এত টাকা খরচ করে পড়ানোর ফল কী হলো!’ কিংবা ‘তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না’। এ ধরনের মন্তব্য শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস আরও কমিয়ে দিতে পারে।

ফলাফল প্রকাশের পর বকাঝকা করে অতীতের পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব নয়। বরং এতে সন্তান অপরাধবোধ ও মানসিক চাপে আরও বেশি ভুগতে পারে। তাই এ সময় ধৈর্য ধরে তার পাশে থাকা জরুরি।

অন্যের সন্তানের সঙ্গে তুলনা না করা

অন্যের ভালো ফলের সঙ্গে নিজের সন্তানের ফল তুলনা করাও ক্ষতিকর হতে পারে। ‘পাশের বাসার আন্টির ছেলে কত জিপিএ পেয়েছে, আর তুমি কী করলে!’—এ ধরনের মন্তব্য সন্তানের মধ্যে হীনম্মন্যতা ও হতাশা তৈরি করতে পারে।

প্রতিটি শিক্ষার্থীর মানসিক গঠন, আগ্রহ ও সামর্থ্য আলাদা। তাই অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে সন্তানের নিজের অগ্রগতি এবং ইতিবাচক দিকগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সন্তানের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা

পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না হওয়ার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। পরীক্ষার সময় অসুস্থতা, পারিবারিক চাপ কিংবা কোনো বিষয়ে প্রস্তুতির ঘাটতি—যেকোনো কিছুই ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই সন্তানকে দোষারোপ না করে তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা প্রয়োজন। কেন এমন ফল হয়েছে, সে কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল, তা বোঝার চেষ্টা করলে তার মানসিক চাপও কমতে পারে।

মানসিক অবস্থার প্রতি নজর রাখা

ফল প্রকাশের পর কোনো শিক্ষার্থী চুপচাপ হয়ে যেতে পারে, সবার কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে পারে কিংবা একা থাকতে চাইতে পারে। এসব পরিবর্তনকে শুধু অভিমান ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।

সন্তানের পাশে থেকে তাকে বোঝাতে হবে, জীবনের সবকিছু একটি পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করে না। তার মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে প্রয়োজনে পেশাদার পরামর্শক বা চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

বাস্তবসম্মত বিকল্প পরিকল্পনা করা

জিপিএ-৫ না পাওয়া কিংবা প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে না পারা মানেই উচ্চশিক্ষার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিভিন্ন সুযোগের পাশাপাশি ডিগ্রি কলেজ, পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য শিক্ষাপথও বিবেচনায় রাখা যেতে পারে।

সন্তানের আগ্রহ, যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা জরুরি। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

সবশেষে মনে রাখা প্রয়োজন, এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষার ফলাফল জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও সেটিই জীবনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। ভালো ফল যেমন সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে, তেমনি আশানুরূপ ফল না হওয়াও জীবনের সম্ভাবনাগুলো শেষ করে দেয় না। বরং কঠিন সময়ে পরিবারের ভালোবাসা, ধৈর্য ও মানসিক সমর্থনই একজন শিক্ষার্থীকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগাতে পারে।

 

মন্তব্য করুন