তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ২০ ঘন্টা আগে, ০৯:০৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

কালবৈশাখীর দাপটে বজ্রপাতে দেশের চার জেলায় ৮ প্রাণহানি

সংগৃহীত ছবি

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সারাদিন ধরে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতের তাণ্ডবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে মোট আটজনের প্রাণহানি ঘটেছে। নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নোয়াখালী জেলায় পৃথক ঘটনায় নিহতরা বেশিরভাগই হাওরে কৃষিকাজে ব্যস্ত ছিলেন।

নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলায় একই দিনে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সকালে ধনু নদে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারান আব্দুল মোতালিব নামে এক জেলে। দুপুরে হাওরে ধান শুকাতে গিয়ে মারা যান সাতগাঁও গ্রামের মোনায়েম খা (হালান মিয়া) (৫৪)। একই সময়ে কৃষ্ণপুর এলাকার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নিহত হন শুভ মন্ডল নামে এক শ্রমিক।

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় বিকেল ৪টার দিকে পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রাম সংলগ্ন হাওরে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান কৃষক মকছুদ আলী (৪০)।

সুনামগঞ্জে সোমবার বিকেলে সদর ও জামালগঞ্জ উপজেলায় পৃথক ঘটনায় তিন কৃষকের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতরা হলেন- মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন (৪৬), গৌরারং ইউনিয়নের বৈটাখালী গ্রামের জমির হোসেন (৪০) এবং জামালগঞ্জের রূপাবালী গ্রামের আবু ছালেক (২০)। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চর ঈশ্বর ইউনিয়নের গামছাখালী গ্রামে দুপুর ২টার দিকে বাদামক্ষেত দেখতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারান ২৩ বছর বয়সী যুবক মো. আরাফাত। তিনি স্থানীয় একটি বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন।

খালিয়াজুরী থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “তারা ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাদের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের ডা. শফিকুর রহমান জানান, “সোমবার দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে বজ্রপাতে তিনজনের প্রাণহানি হয়েছে।”

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, “বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যায়। এ সময় অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের না হওয়া এবং নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া উচিত।”

প্রতি বছর বৈশাখী ঝড়ের মৌসুমে হাওরাঞ্চলে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা বেড়ে যায়। স্থানীয় প্রশাসন নিহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন