তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ২৩ ঘন্টা আগে, ০৬:০৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

জলকূপ ঘিরে বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘাত, চাদে প্রাণ গেলো ৪২ জনের

সংগৃহীত ছবি

আফ্রিকার দেশ চাদে একটি জলকূপের মালিকানা নিয়ে দুই পরিবারের বিবাদ শেষ পর্যন্ত রূপ নিয়েছে ভয়াবহ আন্তঃগোষ্ঠী সংঘর্ষে। ওয়াদি ফিরা প্রদেশে এই সহিংসতায় অন্তত ৪২ জন প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। একের পর এক গ্রাম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, প্রতিশোধের আগুনে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।

পরিস্থিতি সামাল দিতে রোববার উপপ্রধানমন্ত্রী লিমানে মাহামাতের নেতৃত্বে একটি সরকারি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। পাশাপাশি উপপ্রধানমন্ত্রী মাহামাত আশ্বস্ত করেছেন যে, প্রতিবেশী সুদানের গৃহযুদ্ধের প্রভাব যেন সীমান্ত এলাকাকে অস্থিতিশীল না করে, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চাদে এ ধরনের সংঘাত নতুন নয়। পানি ও চারণভূমি নিয়ে কৃষক ও পশুপালকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। গত নভেম্বরেও দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমের দিবেবে অঞ্চলে একটি কূপকে কেন্দ্র করে একই ধরনের বিরোধে ৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। থিঙ্কট্যাংক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে একশটির মতো সংঘাতে এক হাজার মানুষ নিহত ও দুই হাজার আহত হয়েছেন।

সুদান থেকে আসা শরণার্থীদের ঢল পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। সীমিত সম্পদের ওপর চাপ বাড়ায় স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পশুপালক-কৃষক সহিংসতার সাতটি ঘটনা নথিভুক্ত করেছে, যেগুলোতে ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, ঘটনার খবর পেলেও নিরাপত্তা বাহিনীর পৌঁছাতে দেরি হয়, দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায়ও আনা হয় না; ফলে 'বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে দায়মুক্তি ও প্রান্তিকতার বোধ আরও বেড়ে যাচ্ছে।'

জলবায়ু পরিবর্তনকেও এই সংঘাতের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে অ্যামনেস্টি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্যকর রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এই রক্তক্ষয়ী চক্র থেকে বেরিয়ে আসার পথ নেই।

মন্তব্য করুন