তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

শিক্ষার্থীরা ভাইরাল হতে চায়: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা বিচ্যুতি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ভাইরাল’ হওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি মন্তব্য করেছেন,আজকের তরুণ প্রজন্ম, এমনকি যারা ইউনিফর্ম পরে, তারাও তাদের শিক্ষক কিংবা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের অশালীন মন্তব্য করতে দ্বিধা করে না। 

রোববার (২৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) মিলনায়তনে ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে গতিশীল করা এবং উদ্ভাবকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

বক্তব্য চলাকালীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা নৈতিকতা বিবর্জিত জায়গায় যাচ্ছে, তারা ভাইরাল হতে চায়। আজকের তরুণ প্রজন্ম, এমনকি যারা ইউনিফর্ম পরে, তারাও তাদের শিক্ষক কিংবা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের অশালীন মন্তব্য করতে দ্বিধা করে না।’ তিনি ফেসবুক লাইভ সংস্কৃতির সমালোচনা করে আরও বলেন, ‘আপনি কি ভেবে দেখেছেন, এখনকার সময়ে অনেকেই ফেসবুকে লাইভে এসে এমনভাবে মন্তব্য করেন, যা একেবারেই অযাচিত ও অসংলগ্ন। তারা ‘হাই’, ‘গো অ্যাহেড’, ‘ডু আ রিসার্চ’ এ ধরনের নানা মন্তব্য করেন। এটি অনেক সময় উদ্দেশ্যহীনভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ফেসবুক লাইভ দেখা এবং ভাইরাল হওয়ার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে।’ তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে মন্ত্রী বলেন, ‘এ অবস্থায় আমাদের ইয়াং জেনারেশনকে নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আজকের তরুণ প্রজন্ম, এমনকি যারা ইউনিফর্ম পরে, তারাও তাদের শিক্ষক কিংবা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের অশালীন মন্তব্য করতে দ্বিধা করে না। প্রশ্ন উঠছে আমরা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে কোন পথে নিয়ে যাচ্ছি? আমরা কি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাচ্ছি? আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড যা দেশের ভবিষ্যৎ শক্তি হওয়ার কথা তা কি আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছি?’

একই অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব বা ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি (আইপি) ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার বিষয়টিও মন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি) ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। আমরা দেখছি, আমাদের দেশের উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্ব অন্য দেশে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন ও ট্রেডমার্ক পাচ্ছে, কিন্তু আমরা নিজের দেশে যথাযথভাবে তা প্রতিষ্ঠা করতে পারছি না, মূলত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার দুর্বলতার কারণে।’

ইউজিসি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী আহ্বান জানান যাতে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে দেশীয় উদ্ভাবকদের মেধাস্বত্ব রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। একইসঙ্গে তিনি শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজসেবকদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তরুণদের সুস্থ ও নৈতিক জীবনধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মন্ত্রীর এই সোজাসাপ্টা বক্তব্য বর্তমান সামাজিক সংকটের একটি বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।

মন্তব্য করুন