তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৫:৩৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটে পোশাক খাত: সক্ষমতার অর্ধেক উৎপাদন ব্যাহত

ছবি: সংগৃহীত

দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প এখন জ্বালানি সংকট ও তীব্র লোডশেডিংয়ের মুখে পড়ে গভীর সংকটে নিমজ্জিত। নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ জানিয়েছে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক কারখানা তাদের মোট সক্ষমতার মাত্র ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। ফলে প্রতি মাসেই কমছে রপ্তানি আয়।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এই উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরেন।

শিল্পাঞ্চলগুলোতে লোডশেডিংয়ের ভয়াবহতা বর্ণনা করে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বিভিন্ন শিল্প এলাকায় প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। পরশু দিন আশুলিয়ায় দিনের বেলায় ছয় ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ ছিল না। একটি কারখানা দিনের বেলায় সাধারণত ১০ ঘণ্টা কার্যক্রম চালায়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন ভালুকা, শ্রীপুর বা রাজেন্দ্রপুরের মতো এলাকাগুলোতে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

বিকেএমইএ সভাপতির মতে, জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প খাত তার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে শিল্পকারখানাগুলো তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। তাই রপ্তানিও প্রতি মাসে একটু একটু করে কমছে। অনেক কারখানা তাদের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করা গেলে এই খাতে রপ্তানি আয় বছরে ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারত।’

উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর ওপর বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থায় কাঁচামাল আমদানির সময় ও খরচ দুই-ই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। সব মিলিয়ে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিসহ অন্যান্য কারণে উৎপাদন ব্যয় অন্তত ২০ শতাংশ বেড়েছে।

পোশাক খাতের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘উৎপাদন খরচ বাড়লেও ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি মূল্য আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা শ্রম আইন ও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে আমাদের ওপর নজরদারি চালায়। তবে ক্রেতারা আমাদের ন্যায্য মূল্য দিচ্ছেন কি না, সে বিষয় নিয়ে কেউ তদারকি করছে না।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান এবং ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজির নির্বাহী পরিচালক স্পেন্সার লিন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যার সমাধান না হলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের অবস্থান সংকটে পড়তে পারে।

মন্তব্য করুন