তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৭:৩৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী । ছবি: সংগৃহীত

দেশে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহ করে সাময়িক স্বস্তি দেওয়ার নীতি থেকে সরে এসে এখন স্থিতিশীল ও টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও অর্থনীতি বিটের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে বাজারে মুদ্রা সরবরাহ সীমিত রাখা জরুরি। অতীতে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ ও টাকা ছাপানোর কারণে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে, যার ফলে সুদের হার বেড়েছে এবং বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার এমন নীতি অনুসরণ করছে যাতে অতিরিক্ত তারল্য সৃষ্টি না হয়। কারণ অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহ মূল্যস্ফীতি বাড়ায় এবং অর্থনীতির ভারসাম্য নষ্ট করে।

অর্থমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতে পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতির কারণে দেশের অর্থনীতি সীমিত কিছু গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে এখন “অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ”-এর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, অর্থনীতির সুফল সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নারীদের ক্ষমতায়নে “ফ্যামিলি কার্ড” কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, স্বাস্থ্য ব্যয় কমাতে পারলে মানুষের কার্যকর আয় বৃদ্ধি পায়।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), স্টার্টআপ এবং গ্রামীণ কুটিরশিল্পকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব খাতের বিকাশে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি সৃজনশীল অর্থনীতিকেও মূলধারায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি বেসরকারি খাতকে চাপে ফেলেছে। বিনিয়োগ বাড়াতে হলে ব্যবসা সহজীকরণ ও নিয়ন্ত্রণ শিথিল (ডিরেগুলেশন) জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন