তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ১০:১৮ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

কবে কমবে লোডশেডিং সুখবর দিল বিদ্যুৎ বিভাগ

ছবি: সংগৃহীত

তীব্র দাবদাহ আর অসহনীয় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবনে কিছুটা স্বস্তির আভাস দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে। মূলত বড় কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বৃদ্ধি ও আমদানিকৃত বিদ্যুতের সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ার মাধ্যমেই এই সংকট উত্তরণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে পুনরায় পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যুৎ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া বাঁশখালীর এসএস পাওয়ারের আইপিপি প্ল্যান্ট থেকে আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে আরও ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা সংকটের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘২৮ এপ্রিল থেকে প্রায় ১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমরা পাবো, যাতে সংকট খানিকটা কমবে। এছাড়া জ্বালানি সংকটে আরএনপিএন এর বন্ধ ইউনিটটি চালু হলে সব মিলিয়ে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হবে।’

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট আমাদেরকে যা সাপ্লাই করতো তাদের একটি ইউনিটে সমস্যা হওয়ায় এখন অর্ধেক দিতে পারছে, বাঁশখালির এসএস পাওয়ারের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। তাদের সবার সঙ্গে আমরা কথা বলেছি, আশা করছি সপ্তাহ খানেকের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’

তবে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পথে বিশ্ব রাজনীতির প্রভাবকেও আমলে নিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট পুরোপুরি না কাটলে লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি থেকেই যাবে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন মনে করেন, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সচল করে দ্রুত লোডশেডিং কমানো সম্ভব হলেও তা দেশের অর্থনীতির ওপর বিশাল চাপ তৈরি করবে। তিনি জানান, বর্তমানে এই খাতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, যা বেড়ে ৬০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। ফলে ফার্নেস অয়েল নির্ভর কেন্দ্রগুলো থেকে চাইলেই উৎপাদন বাড়ানো বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কঠিন।

গরমের তীব্রতায় শিল্প ও কৃষি উৎপাদন যখন হুমকির মুখে, তখন মে মাসের প্রথম সপ্তাহে দুই হাজার মেগাওয়াট বাড়তি বিদ্যুতের এই প্রতিশ্রুতি কতটুকু কার্যকর হয়, তা-ই এখন দেখার বিষয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে এলে এবং উৎপাদন বাড়লে মে মাসের শুরুতেই জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে।

মন্তব্য করুন