প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

বিদ্যুৎ সাশ্রয় নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, তদারকির অভাবে বেপরোয়া ব্যবসা

লালমনিরহাটে সরকারের নির্দেশনা অমান্য—সন্ধ্যার পরও দেদারসে খোলা দোকান, নীরব প্রশাসন

উপজেলা প্রতিনিধি মো আব্দুল বারেক 

সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও লালমনিরহাটে তা প্রকাশ্যেই উপেক্ষিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সন্ধ্যা ৬টার পর দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন নেই। বরং জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাত পর্যন্ত দেদারসে চলছে ব্যবসা কার্যক্রম।
ঘুরে দেখা গেছে, কাপড়ের শোরুম, ইলেকট্রনিক্স দোকান, মোটরসাইকেল শোরুম, শপিংমল ও প্রসাধনীর দোকান নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও খোলা রয়েছে নির্বিঘ্নে। যেন কোনো নির্দেশনাই নেই—এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে শহরজুড়ে।
এতে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর কার্যত কোনো তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অনেকেই বলছেন, আইন থাকলেও প্রয়োগ না থাকায় তা উপহাসে পরিণত হয়েছে।
নিয়ম মেনে দোকান বন্ধ রাখা ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যারা নির্দেশনা মানছেন তারা আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়ছেন, আর যারা অমান্য করছেন তারা লাভবান হচ্ছেন—এতে সৃষ্টি হয়েছে চরম বৈষম্য।
অন্যদিকে কিছু ব্যবসায়ী অজুহাত হিসেবে বাজার পরিস্থিতি ও বিক্রির চাপের কথা তুলে ধরলেও সচেতন মহল বলছে, এটি কোনোভাবেই আইন অমান্যের বৈধতা দিতে পারে না।
প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো দৃশ্যমান জবাবদিহিতা পাওয়া যায়নি। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো উপস্থিতি চোখে পড়ছে না।
সচেতন মহলের মতে, এভাবে চলতে থাকলে সরকারের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগ সম্পূর্ণ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। দ্রুত কঠোর অভিযান ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আইন-শৃঙ্খলার প্রতি মানুষের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

 

মন্তব্য করুন