নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মানবাধিকার কমিশন ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে’ শূন্য, বিদায়ী কমিশনারদের খোলাচিঠি

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ার প্রেক্ষাপটে পদত্যাগ করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরা। গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল’ পাসের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ২০০৯ সালের মূল আইনটি পুনরায় কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে গত ৫ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পাওয়া কমিশনের কার্যকারিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই শেষ হয়ে যায়।

পদত্যাগের পর বিদায়ী কমিশনের সদস্যরা একটি ‘খোলাচিঠি’ প্রকাশ করেছেন, যেখানে তাঁরা সংসদে উপস্থাপিত তথ্যের অসংগতি এবং আইনি জটিলতা নিয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।

পদত্যাগ ও অস্পষ্টতা: বিদায়ী কমিশনের সদস্য ও বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী নূর খান জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের সরাসরি পদত্যাগ করতে বলা হয়নি, তবে পুরো বিষয়টি একটি ধোঁয়াশার মধ্যে রাখা হয়েছিল। যেহেতু তাঁরা অন্তর্বর্তীকালীন অধ্যাদেশের অধীনে নিয়োগ পেয়েছিলেন এবং সেই অধ্যাদেশটিই এখন রহিত করা হয়েছে, তাই নৈতিক জায়গা থেকে পদত্যাগ করাকেই তাঁরা সমীচীন মনে করেছেন। কমিশনের সচিব কুদরত-এ-ইলাহীও নিশ্চিত করেছেন যে, নতুন বিল পাসের ফলে আগের কমিশনটি এখন আর অস্তিত্বশীল নেই।

আইনি প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক বিতর্ক: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গঠিত কমিশন গত নভেম্বরে পদত্যাগ করে। এরপর ৩০ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদ ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন দেয়। এই নতুন অধ্যাদেশের আলোকেই হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে নতুন কমিশন গঠিত হয়েছিল। তবে বর্তমান সংসদ বিরোধী দলের আপত্তি সত্ত্বেও সেই অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালের পুরনো আইনটি ফিরিয়ে এনেছে।

বিদায়ী সদস্যদের খোলাচিঠি: ‘সদ্য বিদায়ী জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কমিশনারদের খোলাচিঠি’ শিরোনামে প্রকাশিত পত্রে সদস্যরা তিনটি প্রধান বিষয়ে আলোকপাত করেছেন: ১. সংসদে উপস্থাপিত তথ্যের ভুল ব্যাখ্যা ও তার জবাব। ২. অধ্যাদেশগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের প্রকৃত আপত্তির কারণসমূহ। ৩. ভবিষ্যৎ আইনের গুণগত মান বিচারের প্রস্তাবনা।

চিঠিতে সদস্যরা উল্লেখ করেছেন যে, প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিস্বার্থে নয়, বরং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ভুক্তভোগীদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তাঁরা কথা বলছেন। অধ্যাদেশটি বাতিল হওয়ায় বিচারপ্রার্থী ভুক্তভোগীরা এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ।

উল্লেখ্য, সদ্য বিদায়ী এই কমিশনে নূর খান ছাড়াও নাবিলা ইদ্রিস, অধ্যাপক মো. শরিফুল ইসলাম এবং ইলিরা দেওয়ানের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সদস্য হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। নতুন বিলটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে

মন্তব্য করুন