কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৮:১৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

থাইল্যান্ডে ফেসবুক লাইভ ঘিরে ফের সমালোচনায় উত্তর বাংলা কলেজের অধ্যক্ষ

লালমনিরহাট জেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উত্তর বাংলা কলেজ। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার মান ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য প্রতিষ্ঠানটির সুনাম থাকলেও মাঝে মধ্যেই নানা ঘটনায় আলোচনা–সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে কলেজটির প্রশাসন। বিশেষ করে অধ্যক্ষকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৬ মার্চ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে আবারও সমালোচনার মুখে পড়েছেন উত্তর বাংলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ সরকার।
জানা যায়, কলেজটির অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ সরকার, লাইব্রেরিয়ান নুরুল আমিন এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আফতাবুজ্জামান ব্যক্তিগত সফরে সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড ভ্রমণে যান।
থাইল্যান্ডের পাতায়া সমুদ্র সৈকতে অবস্থানকালে অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ সরকার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে আসেন। ওই লাইভ ভিডিওতে সমুদ্র সৈকতে গোসলরত অর্ধনগ্ন বিদেশি নারীদের দৃশ্য দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
সমালোচনার মুখে পড়ার পর অধ্যক্ষ তার ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি মুছে ফেলেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের শিক্ষকরা আমাদের আদর্শ হওয়ার কথা। কিন্তু যদি শিক্ষকরা এমন আচরণ করেন, তাহলে আমরা তাদের কাছ থেকে কী শিখব?”
একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ যদি এমন বিতর্কে জড়ান, তাও আবার পবিত্র রমজান মাসে, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে শিক্ষকদের প্রতি সম্মান কমে যায়। আমাদের সন্তানরা তো তাদের কাছ থেকেই শিক্ষা নেয়।”
উল্লেখ্য, এর আগেও একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছিলেন অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ সরকার। গত ১২ জুলাই ২০২৪ তারিখে নিজের ফেসবুক আইডিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে “প্রতিবন্ধী প্রজন্ম” মন্তব্য করে একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি। স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তখনও সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
এদিকে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী ও সচেতন মহল মনে করছেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে অধ্যক্ষের আচরণ আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন