প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১১:১৪ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। তবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানিয়েছে, এই জলপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে জাহাজগুলোকে কঠোরভাবে দুটি শর্ত মেনে চলতে হবে।
আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো পুনরায় চলাচল করতে পারলেও কোনো সামরিক জাহাজ এই রুট ব্যবহার করতে পারবে না। বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য শর্ত দুটি হলো:
নির্দিষ্ট রুট অনুসরণ: প্রণালির মধ্য দিয়ে চলাচলের সময় আইআরজিসি কর্তৃক পূর্বনির্ধারিত রুট বা করিডোর দিয়েই কেবল জাহাজগুলোকে অগ্রসর হতে হবে।
পূর্বানুমতি গ্রহণ: এই জলপথ ব্যবহারের আগে প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজকে আইআরজিসি নৌবাহিনীর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি গ্রহণ করতে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি বন্ধ করে দেয় তেহরান। যুদ্ধের এই উত্তাল সময়ে:
অন্তত ১৯টি বেসামরিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করে।
যুক্তরাষ্ট্র যেন শক্তি প্রয়োগ করে প্রণালিটি দখল বা উন্মুক্ত করতে না পারে, সেজন্য ইরান এই জলপথে ব্যাপক হারে নৌ-মাইন পেতে রাখে।
ফলে গত প্রায় দেড় মাস ধরে বিশ্বের এই ব্যস্ততম জ্বালানি রুটটি কার্যত স্থবির হয়ে ছিল।
গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবানন পরিস্থিতির কারণে ইরান প্রণালিটি খুলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তবে গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ইসরাইল ও লেবানন ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর বরফ গলতে শুরু করে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আইআরজিসি-র এই ‘অনুমতি ভিত্তিক’ চলাচল ব্যবস্থা নির্দেশ করছে যে, ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ পূর্ণমাত্রায় বজায় রাখতে চায়।
আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে হরমুজ প্রণালি থেকে স্থায়ীভাবে নৌ-মাইন অপসারণ এবং অবরোধ পুরোপুরি তুলে নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে তেলের বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও আইআরজিসি-র কঠোর তদারকি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
মন্তব্য করুন