প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬, ১০:৩৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তির প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও লেবানন ও সিরিয়ায় দখল করা এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো ইঙ্গিত দেননি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা প্রয়োজন থাকলে ইসরায়েলি বাহিনী ওইসব এলাকায় অবস্থান অব্যাহত রাখবে।
সোমবার (১৫ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, লেবাননের দখল করা প্রায় ৫৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অবস্থান চালিয়ে যাবে। তাঁর ভাষায়, “যতদিন প্রয়োজন হবে, ততদিন আমরা লেবাননের নিরাপত্তা বেষ্টনী এলাকায় থাকব।”
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার অংশ হিসেবে লেবাননসহ আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা থাকলেও নেতানিয়াহুর এই অবস্থান যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়ায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিতে সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতে জড়িত ইসরায়েল ২০২৪ সালের অক্টোবরে সীমান্ত পেরিয়ে লেবাননে পূর্ণমাত্রার অভিযান শুরু করে। বর্তমানে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের লিতানি নদীর ওপার পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে, চুক্তির প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক এক হামলায় বৈরুতের উপকণ্ঠে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। এ হামলা যুদ্ধবিরতির অগ্রগতিকে ব্যাহত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় নেতানিয়াহু নিজ দেশেই বিরোধী দল ও কট্টরপন্থি মহলের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। একইসঙ্গে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন