স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ অক্টোবার, ২০২৬, ০৯:৩৯ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ১২০ মিনিট খেলেও গোলের জন্য একটি শটও নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। সেই হতাশার পর যেন গোলের নেশায় ছুটছে দলটি। বলিভিয়ার বিপক্ষে ৪ গোলের পর এবার বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনা।

লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ, নিকো পাজ, জুলিয়ানো সিমিওনে, জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি ও ফ্রান্কো মাস্তানতুওনো গোলের খাতায় নাম তুলেছেন। পুরো ম্যাচেই আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক মানসিকতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

বুরকিনা ফাসোর গোলমুখে মোট ২৮টি শট নিয়েছে আর্জেন্টিনা, যার ১৬টি ছিল লক্ষ্যে। ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে তারা।

ম্যাচটি অবশ্য আদৌ হবে কি না, তা নিয়েই ছিল শঙ্কা। বুরকিনা ফাসোর আর্জেন্টিনায় আসার জন্য নির্ধারিত চার্টার্ড ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। ফেডারেশন বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে গেলে জাতীয় দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড় তাতে রাজি হননি।

পরে বাধ্য হয়ে কোচ আমীর আব্দৌ অ-২৩ দলের খেলোয়াড়দের ডাকেন। সেই দলে জাতীয় দলের ছিলেন মাত্র একজন খেলোয়াড়—চেক বাবেল। ম্যাচ শুরুর মাত্র পাঁচ ঘণ্টা আগে দলটি আর্জেন্টিনায় পৌঁছায়।

বিমানবন্দর থেকেই দলের সরঞ্জাম মাঠে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সামান্য বিশ্রামের পরই খেলোয়াড়দের মাঠে নামতে হয়। বড় দলের বিপক্ষে খেলার অনভিজ্ঞতা, হুট করে দলে ডাক পাওয়া এবং ভ্রমণক্লান্তি—সব মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই মাঠে নামে বুরকিনা ফাসো।

আর্জেন্টিনা শুরু থেকেই সেই সুযোগ কাজে লাগায়। তৃতীয় মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজ পেনাল্টি মিস করলেও ফিরতি চেষ্টায় গোল করেন। ছয় মিনিট পর হুলিয়ান আলভারেজের ক্রস ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন মুমুনি দিয়ালো।

১২ মিনিটে তৃতীয় গোল করেন জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি। লাউতারোর সঙ্গে পাস দেওয়া-নেওয়ার পর দারুণ ফিনিশে বল জালে জড়ান তিনি।

৩৪ মিনিটে চতুর্থ গোল আসে নিকো পাজের পা থেকে। ম্যাক অ্যালিস্টারের থ্রু পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেন তিনি। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল পেলেন পাজ।

দুই মিনিট পরই ব্যবধান ৫-০ করেন হুলিয়ান আলভারেজ। প্রেস্তিয়ান্নির পাস থেকে গোল করেন তিনি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ৫-০ ব্যবধানে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একসঙ্গে পাঁচটি পরিবর্তন আনেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। বালেরদি, তোমাস পালাসিওস, ফ্লোরেস, মাস্তানতুওনো ও সুলে মাঠে নামেন। উঠে যান রোমেরো, লিসান্দ্রো, হুলিয়ান, প্রেস্তিয়ান্নি ও নিকো পাজ।

৫৬ মিনিটের দিকে ষষ্ঠ গোল পায় আর্জেন্টিনা। গোলরক্ষক বেরিয়ে আসার আগেই লাউতারোর পাস থেকে বল জালে পাঠান ফ্রান্কো মাস্তানতুওনো। জাতীয় দলের হয়ে এটি ফিওরেন্তিনা ফরোয়ার্ডের প্রথম গোল।

এরপর আরও কয়েকটি পরিবর্তন আনে আর্জেন্টিনা। নিকো গনসালেজ ও জুলিয়ানো সিমিওনে মাঠে নামেন। পরে সান্তি কাস্ত্রো, এসেকিয়েল পালাসিওস ও ভালেন্তিন বার্কোকেও খেলানো হয়।

শেষ দিকে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের বদলে মাঠে নামেন হেরোনিমো রুল্লি। ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে সপ্তম গোলটি করেন জুলিয়ানো সিমিওনে। দারুণ এক ক্রস থেকে হেডে গোল করে ম্যাচের বড় জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

ফরোয়ার্ডদের পাশাপাশি মিডফিল্ডাররাও গোলের খাতায় নাম তুলেছেন। টানা দুই ম্যাচে গোলের এমন বন্যা আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক ফুটবলেরই প্রতিফলন।

মন্তব্য করুন