তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৪৬ মিনিট আগে, ১২:১১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের সঙ্গে আলাদা বৈঠকের সুযোগ কম: হুমায়ুন কবির

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে তাঁর কর্মসূচি ও সফরের লক্ষ্য তুলে ধরেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল। স্থানীয় সময় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় ম্যানহাটনের ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলের লবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলাদা বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়া। ফলে আলাদা করে এ ধরনের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার তেমন সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।

তবে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে হুমায়ুন কবির জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় এবং উভয় পক্ষের সুবিধাজনক সময়ে পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফরের মাধ্যমে বৈঠক আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

এর আগে ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাংলাদেশের বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে পাঠানো ওই চিঠিতে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে শিগগির সাক্ষাতের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছিলেন ট্রাম্প।

সফরে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কোনো প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, নিউইয়র্কে এ বিষয়ে আলোচনার সুযোগ নেই বললেই চলে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর আগামী দিনে নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা, নেতৃত্ব ও নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরাই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিনও জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের বহর নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন মাহ্‌দী আমিন। তিনি জানান, প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এবার অত্যন্ত সীমিত পরিসরে প্রতিনিধিদল গঠন করা হয়েছে।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ৩৩ জন। এর বাইরে নিরাপত্তাকর্মী, প্রয়োজনীয় গণমাধ্যমকর্মী ও ব্যক্তিগত কয়েকজন কর্মী রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে দেশের স্বার্থ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রতিনিধিদল সংক্ষিপ্ত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে পৃথক এক প্রতিবেদনে প্রতিনিধিদলের সদস্যসংখ্যা ৩৫ বলা হয়েছে। ফলে আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিদলের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপস্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের মূল কর্মসূচির মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশগ্রহণ এবং সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়া রয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

মন্তব্য করুন