তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ০৪:২৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

কারিগরি শিক্ষায় বৈশ্বিক বাজার ধরতে বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ রোডম্যাপ কেমন হবে

শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অংশীদারিত্ব দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকালে চীনের চিয়াংশি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা বিনিময় সম্মেলনে’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হিসেবে বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’র প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন বলেন, "এর মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।" তিনি আরও বলেন, দুই দেশের এই সহযোগিতা কেবল আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে সীমাবদ্ধ না রেখে তা বাস্তবে কার্যকর করে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও সুযোগ সৃষ্টি করাই মূল লক্ষ্য। শিক্ষাকে দক্ষতায়, দক্ষতাকে কর্মসংস্থানে এবং কর্মসংস্থানকে সুযোগে পরিণত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশের পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং চীনের পক্ষে চিয়াংশি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ঝেং পেংউ এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এর আওতায় বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, দ্বিভাষিক শিক্ষা উপকরণ, গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন, শিক্ষক বিনিময় এবং চীনা বিনিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধির যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সমঝোতা স্মারকটির বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, "সমঝোতা স্মারকটি কেবল কাগজে লেখা কোনো স্মারক নয়; এটি আমাদের দুই দেশের জনগণের জন্য সহযোগিতাকে বাস্তব সুযোগে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি। একটি সমঝোতা স্মারক তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে এবং বাস্তবায়ন থেকে ফলাফলে রূপান্তরিত হয়।"

সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল তিনটি আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র উন্মোচন। এর মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং ফ্যান হংহুই যৌথভাবে ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার’ উন্মোচন করেন। চিয়াংশি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটিতে ‘বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার’ উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রফেসর পেই হংওয়েই। এছাড়া ‘বাংলাদেশ চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন সেন্টার’ উন্মোচন করেন মো. দাউদ মিয়া এবং প্রফেসর ঝেং পেংউ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করার কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি, রোবোটিক্স এবং স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে বৈশ্বিক অর্থনীতির সুযোগের সাথে যুক্ত করতে হবে।

সম্মেলনে অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন আধুনিক ও শিল্প-সংযুক্ত বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চীনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মানসম্পন্ন কারিগরি শিক্ষা ও আধুনিক দক্ষতার ছোঁয়ায় দেশের বিশাল তরুণ প্রজন্মকে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।

উল্লেখ্য, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নিতে বর্তমানে তিন দিনের সরকারি সফরে চীনে অবস্থান করছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। সম্মেলনে চীন ও বাংলাদেশের বিভিন্ন খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কারিগরি ইনস্টিটিউটের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

মন্তব্য করুন