তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ০৫:১৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

সালমানের ঘটনা নিয়ে যা বললেন তথ্য উপদেষ্টার

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া স্ট্যাটাসের প্রসঙ্গ তুলে অপতথ্য মোকাবিলায় রাজনৈতিক ও সামাজিক সদিচ্ছার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। বিষয়টি নিয়ে তিনি জনপ্রিয় ব্যক্তিদের তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগের পর জামায়াতে ইসলামির আমির ওই বক্তব্যকে বিশ্বাসযোগ্য ধরে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন—এমন প্রসঙ্গ তুলে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিরোধী দলের রাজনীতি করা কেউ সরকারের কোনো সমস্যা পেলে সেটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চাইবেন, সেটি স্বাভাবিক। এটা আমরা বিরোধী দলে থাকলে আমরাও করব, এটাই নিয়ম।

তবে পরবর্তীতে সালমান মুক্তাদির তার পোস্ট সরিয়ে নেওয়ার পরও ওই ঘটনার ভিত্তিতে দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বা পোস্টগুলো বহাল থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, ‘যখন উনি জানলেন এটা, ওই স্ট্যাটাসটা এখনো রয়ে গেছে।... তখন হতে পারতো না যে জামায়াতের আমির এই কথাটাকেই উল্লেখ করে একটা স্ট্যাটাস দেওয়া?’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সালমান মুক্তাদির নিজেই যখন তার আগের পোস্ট বা বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, তখন তার ভিত্তিতে দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য থেকেও সংশ্লিষ্টদের সরে আসা উচিত ছিল।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘তারা যদি বলতেন যে, ঠিক আছে, আমরা আগে এভাবে জেনেছিলাম বলে স্ট্যাটাসটা দিয়েছি, এখন এটা না, আমরা এই ব্যাপার থেকে আমাদের উইথড্র করলাম এইটুকু হলেই হতে পারতো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এই কথাটা আসলে বলতে চাই যে, শুধু আইনি সুরক্ষা না, একটা সামাজিক এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছাসহ আমাদের প্রয়োজন হবে।’

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার পর তার দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক জানতে চান, তিনি প্রথমে বিএনপির নেতারা চাঁদা চেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন। পরে আবার জানান, চাঁদাবাজির বিষয়টি নিশ্চিত নয়। একজন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কাছ থেকে এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে?

উত্তরে জাহেদ উর রহমান বলেন, সালমান মুক্তাদির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকার তার প্রতি সহানুভূতিশীল। তবে ঘটনার বিষয়ে তিনি যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে আমরা সহানুভূতি রেখে কথা বলি, কারণ উনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সেটার শিকার হয়েছেন। আমরা তার প্রতি সহানুভূতিশীল। কিন্তু সেই অবস্থায় তিনি যেভাবে এটা বলেছেন...’।

সালমানের বক্তব্যের পর রাজনৈতিক নেতাদের কেউ কেউ সেই তথ্যের ভিত্তিতে মন্তব্য করেছেন বলেও উল্লেখ করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, পরে সালমান মুক্তাদির নিজেই স্বীকার করেছেন যে বিষয়টি আসলে চাঁদাবাজির ঘটনা নয়। একই সঙ্গে তার স্টুডিও ছাড়াও আরও কয়েকটি স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, কোনো ধরনের সহিংসতার পক্ষে সরকার সাফাই গাইছে না। এ ধরনের ঘটনা হওয়া উচিত ছিল না এবং তা ঠেকাতে পারা উচিত ছিল। এখন সরকারের দায়িত্ব দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, ‘কোনো রকম ভায়োলেন্স হয়েছে, এটাকে সরকার সাফাই গাইছে না। এটা হওয়া উচিত হয়নি, এটা ঠেকাতে পারা উচিত ছিল এবং এখন অন্তত সরকারের কাজ হবে দ্রুত এটার বিচার নিশ্চিত করা।’

সালমান মুক্তাদিরের ঘটনা নিয়ে অপতথ্যের প্রসঙ্গ তুলে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তার প্রভাবও ব্যাপক হতে পারে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বিশ্বজুড়ে অপতথ্য এখন বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাদের ব্যাপক ‘রিচ’, ‘ভয়েস’ ও ‘ট্র্যাকশন’ রয়েছে, তাদের দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমি আশা করি, সালমান মুক্তাদিরের মতো মানুষ যাদের প্রচুর রিচ আছে, ভয়েসের, ট্র্যাকশন আছে, তারা দায়িত্বশীল হবেন।’

অপতথ্য মোকাবিলায় জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি আইনি কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। এ প্রসঙ্গে সাইবার সুরক্ষা আইনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ‘জনগণকে সচেতন করা এবং এর সঙ্গে আইনি অবকাঠামোর মধ্যে এগুলো নিয়ে আসার জন্য আপনারা জানেন একটা আইন নিয়ে কাজ হচ্ছে, সাইবার সুরক্ষা আইন। সে আইনটা আসলে আমরা আশা করি, সেই আইনি পরিসীমার মধ্যে এগুলো নিয়ে কাজ করা যাবে।’

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মুহাম্মদ জহুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন