প্রকাশিত: ৫৯ মিনিট আগে, ১১:১৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক সময় সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী তুর্কি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীরা। ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিট যাত্রাবিরতি করেন তিনি।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তাঁকে ম্যানহাটনের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে নেওয়া হয়।
রাত ৮টার দিকে হোটেলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপস্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান। নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলেই অবস্থান করবেন।
নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। সকালে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে দেওয়া স্বাগত প্রাতরাশে যোগ দেবেন তিনি।
এরপর অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-আইমের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।
এ ছাড়া মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটার প্রধান বৈশ্বিক বিষয়াবলি কর্মকর্তা জোয়েল কাপলানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সংবর্ধনাতেও অংশ নেবেন তিনি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিন রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক একটি পার্শ্ব-আয়োজনে অংশ নিয়ে রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন তিনি।
একই দিনে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে তাঁর।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘের এই সর্বোচ্চ মঞ্চে এটিই হবে তাঁর প্রথম ভাষণ।
সরকারি একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নিউইয়র্ক সময় বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সাধারণ বিতর্কের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে সময় পরিবর্তিত হতে পারে। তাঁর জন্য ১৫ মিনিট সময় বরাদ্দ রয়েছে।
ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার কথা রয়েছে।
একই দিনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারিবিষয়ক একটি পার্শ্ব-আয়োজনেও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।
জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি সফরকালে পাকিস্তান, কুয়েত, ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড ও হাইতিসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিবসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি। অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ওয়াল স্ট্রিট, মেটাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে।
মন্তব্য করুন