প্রকাশিত: ৫২ মিনিট আগে, ০৫:৫২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রাজধানীর গাবতলী থেকে দাসেরকান্দি পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫-এর সাউদার্ন রুট নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গাবতলী থেকে শুরু হয়ে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর ও নাসিরাবাদ হয়ে দাসেরকান্দি পর্যন্ত যাবে এই মেট্রোরেল। প্রকল্পের আওতায় দাসেরকান্দিতে একটি ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা সরকারি অর্থায়ন এবং বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ থেকে প্রকল্প ঋণ হিসেবে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত।
একনেক সভায় একই সঙ্গে এমআরটি লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুট এবং এমআরটি লাইন-১-এর ব্যয় সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশোধনের পর লাইন-৫ নর্দার্ন রুটের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা এবং এমআরটি লাইন-১-এর ব্যয় ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, জাইকার ঋণের সুদের হার চলতি মাসের পর ৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং আরও ছয় মাস পর তা সাড়ে ৩ শতাংশ ছাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে জাপানের ঋণ-নির্ভর দুটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে এখনো নিজেদের মেট্রোরেল নির্মাণের সক্ষমতা তৈরি হয়নি। জাপানও এর চেয়ে কম ব্যয়ে নির্মাণ করতে পারবে না বলে তিনি জানান। প্রকল্পের ব্যয় কারিগরি কমিটি পর্যালোচনা করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বুধবারের একনেক সভায় মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প। অনুমোদিত অর্থের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৪৮ হাজার ২৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ১ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
অন্যান্য অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সড়ক জোনের জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন, নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালু, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ, বরিশাল সেনানিবাস স্থাপন ও খুলনা নৌ অঞ্চলে অবকাঠামো নির্মাণ, খুলনা পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়ন, বস্ত্র ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা উন্নয়ন এবং মনপুরা দ্বীপাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ।
মন্তব্য করুন