প্রকাশিত: ২৬ আগষ্ট, ২০২৬, ১২:১৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
শিক্ষার্থীরা এখন পড়ার টেবিলমুখী, অটোপাশের ইতি, শিক্ষকদের জবাবদিহিতা সহ সর্বোপরি শিক্ষা ব্যবস্থার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা নস্যাৎ করতে চলছে ডিজিটাল মব। যা মোকাবিলা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ এই চক্রান্তে সম্পৃক্ত থাকায় বিষয়টি বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে। গত ২২ আগস্ট মন্ত্রিসভা রদবদলে তারা শিক্ষামন্ত্রী মিলনের বিদায় নিশ্চিত করে। নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য নাকি শিক্ষক নেতা এমপি সেলিম ভূইয়া গলায় টাই পড়ে প্রতীক্ষায় ছিলেন। কিন্তু ষড়যন্ত্রের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঠিকই উপলব্ধি করতে সক্ষম হন।
উল্লেখ্য, রাজধানীর মিরপুরস্থ মনিপুর স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির তালিকায় দৈনিক দিনকালের সাংবাদিক মানিকের অন্তর্ভুক্তি হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সুপারিশে। অথচ এ নিয়ে খোদ মন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ।
বহুল আলোচিত গোয়েন্দা সাংবাদিক একরামুল হকের শীর্ষ নিউজের অনলাইন ভার্সনে এ নিয়ে রীতিমতো ডিজিটাল মব। যা দেখে রীতিমতো বিব্রত হন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
শিক্ষামন্ত্রী মিলনের একমাত্র মেয়ে তানজিদার মাথায় বৃষ্টির পানি পড়লে জ্বর আসে। তাই তিনি নিজের মেয়েকে ফার্মের মুরগির সঙ্গে তুলনা করে প্রসঙ্গক্রমে কথা বলেন ঢাকা সিটি কলেজের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সঙ্গে।
ব্যস, শুরু হলো ডিজিটাল মব। প্রোপাগান্ডা, বিক্ষোভ, মিছিল, লংমার্চ চালিয়ে বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পর্যন্ত গড়ায়। যা পরবর্তীতে ছয় দফা দাবিতেও রূপ নেয়।
জানা গেছে, এই কৃত্রিম ডিজিটাল মব সৃষ্টির নেপথ্যে কলকাঠি নেড়ে শিক্ষামন্ত্রী তথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নে লিপ্ত ছিলেন বহুল আলোচিত শিক্ষক নেতা, নবাগত এমপি সেলিম ভূইয়া গং।
জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বদলির তদবির-বাণিজ্য ও ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের নীলনকশা প্রণয়ন করেছিল শিক্ষক সমিতির কতিপয় প্রভাবশালী নেতা। কিন্তু তাদের এসব প্রস্তাব গুরুত্ব না দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন অটো সফটওয়্যারে বদলি ও এনটিআরসিকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেন।
মামলা জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে প্রায় অর্ধলক্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথ সুগম করেন। শিক্ষকের পেনশন-ভাতার জটিলতা নিরসন ও স্বতন্ত্র পে-স্কেলের পদক্ষেপ নেন।
সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ডে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এহেন ইতিবাচক পরিবর্তন সাধনকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কুচক্রী মহল সহজভাবে মেনে নিতে পারছে না। কারণ, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার বারোটা বাজাতে বিগত ১৬ বছর তারা যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।
কিন্তু এখন শিক্ষামন্ত্রী মিলন ও মাউশির মহাপরিচালক খান মাইনুদ্দিন সোহেলের ইতিবাচক পদক্ষেপে তাদের গাত্রদাহের যত কারণ।
তাই শিক্ষা ব্যবস্থার অগ্রগতিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিতে টার্ম কার্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয় তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষক সমিতির নেতাদের। তাদের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চালানো হয় মন্ত্রী মিলন ও ডিজি সোহেলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল মব।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের নেপথ্যে সক্রিয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এই চক্রটি সম্পর্কে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাতে এসেছে গোপন তথ্য-উপাত্ত। যাতে রাজনীতিবিদ, শিক্ষক নেতা, কোচিং ও গাইডবই চক্রও জড়িত।
মন্তব্য করুন