প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ০৪:০৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশজুড়ে চলমান লোডশেডিং সংকট নিয়ে সুখবর দিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানিয়েছেন, আজ সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটবে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এই আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে বর্তমান সংকটের নেপথ্য কারণও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্যে, 'বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অন্য একটি টার্মিনালও দুর্ঘটনার কারণে পুরোপুরি চালু না হওয়ায় দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়ে লোডশেডিং বেড়েছে।'
প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টিকে কারো হাতে নেই বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'বিকল্প উপায়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।'
পরিস্থিতি উন্নয়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, 'আজ সন্ধ্যা নাগাদ বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে। লোডশেডিংও কমে আসবে। তবে কবে নাগাদ পুরোপুরি জ্বালানি সংকটের সমাধান হবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট দিনক্ষণ বলা সম্ভব নয়।'
সংকট নিরসনে সরকারের উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সমস্যা সমাধানে বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও পরামর্শ নিচ্ছে সরকার। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, দেশীয় উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয় বলে মন্ত্রণালয় এখন দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথেই হাঁটছে।
সংকটের মূল কারণ হিসেবে অতীত সরকারের নীতিকে দায়ী করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভুল নীতির কারণেই বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে এবং যেকোনো সময় এ ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে হতো দেশকে।
সবশেষে জনভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, 'সংকটটি গ্রীষ্ম মৌসুমে শুরু হওয়ায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। এ জন্য আমরা দুঃখিত এবং মানুষের কাছে পুনরায় ক্ষমা চাচ্ছি।'
সবশেষে তিনি জানান, একটি এলএনজি টার্মিনাল পুরোপুরি বন্ধ এবং অন্যটি সীমিত সক্ষমতায় চলায় গ্যাসের ঘাটতি পূরণ করা যাচ্ছে না, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নিয়ে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন