প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ০৩:৩২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমসহ (এস আলম) মোট ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়েরকারী ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন এক সময় ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদেরও সদস্য ছিলেন।
বরখাস্ত হওয়া এই কর্মকর্তার নাম মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বর্তমানে ব্যাংকের ট্রেনিং একাডেমিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সাহাবুদ্দিন, এস আলমসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের আবেদন জানিয়ে দুদকে অভিযোগ দাখিল করেছিলেন ইয়াসীন আলী নিজেই।
এই বরখাস্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, 'শাখা পর্যায় থেকে দুদকে অভিযোগ করার সুযোগ নেই। ঋণের ক্ষেত্রে অনিয়ম হলে আদালতে যাওয়া হয়। আদালত প্রয়োজন মনে করলে অধিকতর তদন্তের জন্য দুদকে পাঠান। এ ছাড়া দুদকের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য আলাদা বিভাগ আছে।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'শাখার কর্মকর্তা কেন দুদকে অভিযোগ জমা দিলেন, তা পরিষ্কার নয়। বিভাগীয় তদন্তের জন্য তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যাংক নিয়ম মেনে আদালতের কাছে যাবে।'
তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যের বিপরীত চিত্র উঠে এসেছে ব্যাংকেরই অভ্যন্তরীণ নথি পর্যালোচনায়। সেখানে দেখা যায়, গত ২৬ জুলাইয়ের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসীন আলীকে আনুষ্ঠানিকভাবেই এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল। মূলত সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সি সোয়েটার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ দায়েরের জন্যই তাকে এ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। ২৭ জুলাই জারি করা একটি চিঠিতে শাখা ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে তাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতাও দেওয়া হয়।
এদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ইতিহাসও বেশ দীর্ঘ। জে এম সি বিল্ডার্স লিমিটেডের প্রতিনিধি হিসেবে ২০১৭ সালে তিনি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে ভাইস চেয়ারম্যানের পদেও আসীন হন। নথি অনুযায়ী ২০১৭ সালের ৮ জুন থেকে ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি এই পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। তবে ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী তিনি ব্যাংকের পরিচালকের পদ থেকে ইস্তফা দেন।
মন্তব্য করুন