তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০১:২০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতার আওতায় আসছে আরও ৮৬ হাজার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান

সংগৃহিত ছবি

চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতার আওতায় আসছে আরও ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, তিন হাজার মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধ বিহার এবং ৩০১টি গির্জা। সোমবার (১০ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় জানায়, এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট দুই লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা এই রাষ্ট্রীয় সুবিধার আওতায় আসবেন। চলতি মাসেই এই কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরতদের জন্য মাসিক সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে সরকার একটি সেল গঠন করেছে, যা নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নেরই অংশ। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সেলের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও সেলের সভাপতি মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। এতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু এমপি, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফসহ সেলের অন্যান্য সদস্যরা।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন অর্থবছরে সম্মানি ভাতার জন্য মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জা নির্বাচনে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো অনুসরণ করা হবে। প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি করে মসজিদ, আর পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের শ্রেণিভেদে ওয়ার্ডপ্রতি দুই থেকে ছয়টি পর্যন্ত মসজিদ নির্বাচিত হবে। একইভাবে প্রতিটি উপজেলা থেকে পাঁচটি করে মন্দির এবং বাকি মন্দির ইউনিয়ন পর্যায় থেকে বাছাই করা হবে। বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার সংখ্যা নির্ধারিত হবে জেলাভিত্তিক ২৫ শতাংশ হারে।

এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও গির্জার যাজকরা মাসিক পাঁচ হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। মুয়াজ্জিন, সেবাইত, উপাধ্যক্ষ ও সহকারী যাজকদের জন্য বরাদ্দ তিন হাজার টাকা, আর মসজিদের খাদেমরা পাবেন মাসিক দুই হাজার টাকা। এই অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে ইএফটির মাধ্যমে পাঠানো হবে।

এ খাতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে এক হাজার ১০০ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ধর্মীয় উপাসনালয় রাষ্ট্রীয় এই সুবিধার আওতায় আসছে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। আগামী তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে দেশের শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

উল্লেখ্য, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ছয় হাজার ১৭টি নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও সেবাইতসহ মোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে প্রথমবারের মতো এই সম্মানী প্রদান করা হয়েছিল।

মন্তব্য করুন