তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ০১:১০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

নিরাপদ অভিবাসনে আইওএমের আরও সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

সংগৃহিত ছবি

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। নিয়মিত অভিবাসনের পথ সহজ করা, অভিবাসী কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ-সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংস্থাটির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে দেশটি। সেই সঙ্গে বিদেশের শ্রমবাজারে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি ও ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ গড়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে আলোচনায়।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানী ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আইওএমের উপ-মহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলস। সৌজন্য এই বৈঠকে অভিবাসন সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়—যার মধ্যে ছিল নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, অভিবাসী কর্মীদের অধিকার রক্ষা এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণ।

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর মাইগ্রেশন (জিসিএম)-এর চ্যাম্পিয়ন দেশের দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ তার জাতীয় কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বৈশ্বিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও মানবিক খাতে আইওএমের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী আরও কিছু অগ্রাধিকার বিষয় তুলে ধরেন, নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ, অনিয়মিত অভিবাসন রোধ, নৈতিক নিয়োগ পদ্ধতি চালু এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা মাথায় রেখে দক্ষ জনশক্তি তৈরি। বিশেষভাবে স্বাস্থ্যসেবা, পরিচর্যা ও কৃষি খাতে দক্ষ কর্মীদের জন্য বিদেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ ও ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ প্রতিষ্ঠার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

নারী অভিবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের প্রশ্নেও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা বিদেশে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের উদ্ধার ও দেশে ফেরানোর কাজে আইওএমের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। এর পাশাপাশি নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, টেকসই পুনর্বাসন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসন এবং মানব ও অভিবাসী পাচার প্রতিরোধে যৌথ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের প্রতি আইওএমের মানবিক সহায়তার কথা স্মরণ করেন এবং তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত, মর্যাদাসম্পন্ন ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

জবাবে আইওএমের উপ-মহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলস অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের উদ্যোগ ও নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভূমিকাকেও তিনি ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেন।

বৈঠক শেষে দুই পক্ষ অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা এবং নিরাপদ-নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিতে বাংলাদেশ-আইওএম পার্টনারশিপ আরও এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করে।

মন্তব্য করুন