তাহিরপুর প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: ৩ আগষ্ট, ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটনে 'রেড অ্যালার্ট': নতুন নিয়মের বেড়াজাল

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রামসার সাইট ও পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটন ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশ দূষণ রোধ এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জারি করা হয়েছে একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা। নতুন এই বিধিনিষেধের ফলে হাওরে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনায় অপারেটর ও হাউসবোট মালিকদের মানতে হবে কঠোর নিয়মকানুন।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশগত সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকায় কোনো ধরনের হাউসবোট বা পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ ও চলাচল করা যাবে না। পাশাপাশি পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন ও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে হাওর ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে টাঙ্গুয়ার হাওরে নিয়ন্ত্রণহীন পর্যটন, উচ্চস্বরে গান-বাজনা, প্লাস্টিক দূষণ, বর্জ্য ফেলা এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব নিয়ে পরিবেশবাদীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী হাউসবোটে উচ্চস্বরে গান-বাজনা, মাইক ব্যবহার ও বিভিন্ন ধরনের পার্টি আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিটি নৌযানে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয়া, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখতে হবে।

এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। প্রতিটি হাউসবোটে বাধ্যতামূলকভাবে সেপটিক ট্যাংক স্থাপন এবং অন্তত দুটি ডাস্টবিন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের বর্জ্য হাওর বা জলাশয়ে ফেললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। ঝড়, ভারী বৃষ্টিপাত কিংবা বজ্রপাতের সময় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়; এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি ও হাজারো পাখি, মাছ এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। তাই পর্যটনের নামে কোনোভাবেই পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না।

পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, নির্দেশনাগুলো কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

হাওর বাঁচলে বাঁচবে জীববৈচিত্র্য, আর জীববৈচিত্র্য বাঁচলে টিকে থাকবে টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রকৃত সৌন্দর্য—জেলা প্রশাসনের নতুন এই উদ্যোগে এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্টদের।

মন্তব্য করুন