নাজমুল হুদা

প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৩:২১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ গড়তে কর্মকর্তাদের মেধা ও সততাকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দেড় দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরাসরি ভোটে নির্বাচিত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে বিয়াম ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে সরকারের এই রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

জনপ্রশাসন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণ–অভ্যুত্থান আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে এই রাষ্ট্রের মালিক এ দেশের জনগণ। তাই জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত করা আপনাদের প্রধান দায়িত্ব।’ তিনি বিয়ামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রার প্রতিটি তারিখ প্রমাণ করে বিএনপি সরকার সবসময় একটি সুদক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনপ্রশাসন দেখতে চেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করে এবং সরকারের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আপনারা যথাযথভাবে সেই দায়িত্ব পালন করতে পেরেছিলেন কি না কিংবা পালন করতে সক্ষম হয়েছিলেন কি না, এই মুহূর্তে সেই প্রশ্ন না তুলে আমি আপনাদের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষ থেকে একটি বার্তা দিতে চাই। দেশ ও জনগণের কাছে আমাদের যে প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়ে এসেছি, সেসব কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়; বরং জনগণের সঙ্গে করা আমাদের চুক্তি। জনগণ আমাদের ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সুতরাং বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচনী ইশতেহার ও জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর।’

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বা মেধাতন্ত্রের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, রাষ্ট্রযন্ত্রের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা ও দক্ষতাই হবে প্রধান মাপকাঠি। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) এই যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রশাসনিক সংস্কার জরুরি। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স ও ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মতো ডিজিটাল কর্মপ্রবাহ তৈরির মাধ্যমে সরকারি ব্যবস্থাকে আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বিয়ামের এই নতুন ভবনকে কেবল অবকাঠামো নয়, বরং জ্ঞানচর্চা ও নেতৃত্ব বিকাশের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, আধুনিক প্রশাসনের দক্ষতা শুধু নিয়ম জানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রযুক্তি ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণই এখন মূল লক্ষ্য।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার এবং বিয়ামের মহাপরিচালক আব্দুল মালেকসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।

মন্তব্য করুন