প্রকাশিত: ১৪ ঘন্টা আগে, ০২:৩১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিদায়ি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্ব ছাড়ার পরবর্তী এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিআইপি) হিসেবে ঘোষণা করার বিষয়টি নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এই বিশেষ মর্যাদা ও এসএসএফ (Special Security Force) নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়, যা সম্প্রতি জনসম্মুখে আসায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সাধারণত বিদায়ি সরকার প্রধানদের জন্য নিরাপত্তার এই মেয়াদ সীমিত থাকলেও, ড. ইউনূসের ক্ষেত্রে ২০০৬ সালের একটি আদেশ সংশোধন করে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত এসআরও (নং ২৮৫) অনুযায়ী:
‘রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে স্ব স্ব পদে কর্মবসানের তারিখ হইতে এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতাকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ তিন মাস অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করিল।’
তবে ড. ইউনূসের ক্ষেত্রে এই তিন মাসের সময়সীমাকে বাড়িয়ে এক বছর করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি কেবল নিজের জন্যই এই মেয়াদ বর্ধিত করেছেন, যেখানে অন্য পদাধিকারীদের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
এই পদক্ষেপকে ‘স্বার্থপরতা’ ও ‘সংবিধানের লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন অনেক আইন বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য আইন সংশোধন করা নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়। আইন বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, এই পরিবর্তন যদি সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর করা হতো, তবে তার কিছুটা যৌক্তিকতা থাকত। কিন্তু নির্দিষ্টভাবে একজনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করা সংবিধানের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী হতে পারে।
কেবল বিশেষ নিরাপত্তা বা ভিআইপি মর্যাদাই নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে নেওয়া আরও কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার। নিজস্ব মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল পরিমাণ সুদ মওকুফ। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নিজের নামে বিশ্ববিদ্যালয় ও রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স গ্রহণের মত বিষয়গুলো।
সর্বশেষ, দায়িত্ব হস্তান্তরের আগমুহূর্তে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা দীর্ঘায়িত করার এই উদ্যোগ ড. ইউনূসের স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
মন্তব্য করুন