তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৫:১২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের মাঝেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের নতুন নথি প্রকাশ

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে একটি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সম্পর্কে নতুন নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগ্রহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে ঘিরে প্রকাশিত একটি পুরোনো যৌন নির্যাতনের অভিযোগসংক্রান্ত নথি। যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলো সম্প্রতি এ সংক্রান্ত কিছু নথি প্রকাশ করেছে, যা আগে জনসমক্ষে আসেনি বলে দাবি করা হচ্ছে।

নতুন প্রকাশিত নথিগুলোতে বলা হয়েছে, একজন অজ্ঞাত নারী ২০১৯ সালে  এফবিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেন যে, তিনি কিশোরী বয়সে ১৯৮০-এর দশকে যৌন নির্যাতনের শিকার হন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ঘটনার সঙ্গে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন এবং ট্রাম্প দুজনই জড়িত ছিলেন।

এই তথ্য তিনটি সাক্ষাৎকার থেকে পাওয়া গেছে, যেগুলো আগে এপস্টেইন-সম্পর্কিত নথিপত্রে অন্তর্ভুক্ত ছিল না বলে দাবি করা হয়েছিল। হোয়াইট হাউসের ওপর চাপ বাড়ার পর গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে এসব নথি প্রকাশ করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টেইন ফাইলের মধ্যে এটিকে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের সময় এবং নির্ধারিত প্রকাশসূচির বাইরে এই নথি প্রকাশ হওয়ায় মার্কিন বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।

নথিতে উল্লেখ রয়েছে, ওই নারীর প্রধান অভিযোগ অনুযায়ী ট্রাম্প তাকে জোর করে ‘ওরাল সেক্স’ করতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন। তখন তিনি ট্রাম্পের পুরুষাঙ্গে কামড় দেন এবং এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প তাকে আঘাত করেন। এফবিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে করেন এমন দাবিও করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ এখনো যাচাই করা হয়নি এবং অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো মামলা দায়ের করেনি এফবিআই। তদন্তকারীদের মতে, নারীর বর্ণনার কিছু অংশ অস্বাভাবিক বা অবিশ্বাস্য বলেও মনে হয়েছে।

এই নথি প্রকাশের সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহৎ আঞ্চলিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে। ওই সংঘাতে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশও জড়িয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে বিরোধী ডেমোক্র্যাট নেতারা দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছেন যে, তারা এপস্টেইন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি গোপন রেখেছিল এবং গত বছরের শেষ দিকে সেগুলো প্রকাশ করা হয়নি।

এফবিআইয়ের মেমোগুলোতে ওই অজ্ঞাত নারীর সঙ্গে করা চারটি সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শৈশবের এক বন্ধু তাকে একটি ছবি পাঠানোর পর তিনি ছবিতে এপস্টেইনকে চিনতে পারেন এবং তখনই নিজের অভিজ্ঞতার কথা সামনে আনেন।

তার দাবি অনুযায়ী, কিশোরী অবস্থায়ই এপস্টেইন তাকে নির্যাতন করা শুরু করে। একবার, যখন তার বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ছিল, এপস্টেইন তাকে গাড়িতে করে নিউইয়র্ক বা নিউ জার্সিতে নিয়ে যায় এবং বলে যে তাকে ‘টাকা আছে এমন একজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে’। পরে তিনি ওই ব্যক্তিকে ট্রাম্প হিসেবে শনাক্ত করেন বলে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন।

তবে হোয়াইট হাউস এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। প্রেস সেক্রেটারি কারোলিন লিভিট অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেন। তার মতে, অভিযোগের পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই এবং অভিযোগকারী নারী মানসিকভাবে সমস্যাগ্রস্ত ও অতীতে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিলেন।

লিভিট আরও বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন-এর প্রশাসনের বিচার বিভাগ চার বছর ধরে এই অভিযোগ সম্পর্কে জানত, কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তার মতে, অভিযোগের ভিত্তি থাকলে তখনই ব্যবস্থা নেওয়া হতো।

হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের পরও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।

মন্তব্য করুন