তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১৮ ঘন্টা আগে, ১০:৪৪ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

তেজগাঁও পলিটেকনিক লতিফ ছাত্রাবাসে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে ১০ আহত

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের লতিফ ছাত্রাবাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনের আঘাত গুরুতর বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে এ সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির পরস্পরকে দোষারোপ করছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে তা পালটাপালটি ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে দেশি অস্ত্র নিয়ে লতিফ ছাত্রাবাসের কক্ষে ঢুকে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।

 

সংঘর্ষের জেরে রাতভর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

 

 পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান সাংবাদিকদের বলেন,

“মধ্যরাতে লতিফ ছাত্রাবাসে ছাত্রদের মধ্যে মারামারির খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজনের আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।”

 

তিনি আরও জানান, ছাত্রদের সঙ্গে ছাত্রাবাস প্রশাসন বসে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেবে। কেউ আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে তাও নেওয়া যাবে।

 

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম তার ফেসবুকে পোস্ট করে বলেন, শিবিরের সন্ত্রাসীরা দেশি অস্ত্র নিয়ে লতিফ ছাত্রাবাসের কক্ষে ঢুকে ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। কক্ষের ভেতরে ঢুকে ছাত্রদলের এক সহযোদ্ধাকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে। অনেকেই আহত হয়েছেন। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে শিবিরের সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করা হবে। শিবিরের সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন তিনি।

 

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) ও ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবু সাদিক কায়েম তার ফেসবুকে পোস্ট করে বলেন, ঢাকা পলিটেকনিকে রাতের অন্ধকারে ছাত্রাবাসে ঢুকে শিবির কর্মীদের ওপর রামদা, রড ও দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল।

 

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছে। এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নতুন সরকার গঠনের পর ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়েছে।

 

পুলিশ বলছে, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। কেউ মামলা করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্পাসে উত্তেজনা এখনো রয়ে গেছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন