মো: রিফাত হোসাইন

প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ০৩:১০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

জ্বালানির দাম বাড়লেও বাসভাড়া ও পণ্যের দাম বৃদ্ধির সুযোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে বাসভাড়া কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে চিত্তরঞ্জন কটন মিলের জমিতে গড়ে ওঠা নিট শিল্পপল্লী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে রপ্তানি কমে গেছে—এমন ঢালাও মন্তব্য সঠিক নয়। তিনি আরও যোগ করেন, ‘জ্বালানির কারণে যে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে রপ্তানি কমে গেছে- ব্যাপারটা এমন না। রপ্তানির বৈশ্বিক একটা মৃদুভাব; সেটিও এটার একটা বড় নিয়ামক কারণ। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরেই ব্যক্তিখাতের শিল্প কারখানায় বিতরণ করা হয়।’

ভবিষ্যৎ শিল্পায়নের রূপরেখা তুলে ধরে মন্ত্রী নতুন বিনিয়োগকারীদের অধিক জ্বালানি নির্ভর (ফুয়েল ইনটেনসিভ) কারখানার পরিবর্তে সাশ্রয়ী বা কম জ্বালানি নির্ভর (লেস ফুয়েল ইনটেনসিভ) কারখানা স্থাপনের আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে নাটকীয়ভাবে বাসভাড়া ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির সুযোগ নেই।’ এ সময় বাজার ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবার নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিটিএমসির জমি উদ্ধার ও শিল্পায়ন প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, চিত্তরঞ্জন কটন মিলের শিল্প প্লটগুলোর মধ্যে দুটিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং আরও দুটি প্লট হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। কিছু স্থানীয় দখল সংক্রান্ত সমস্যা থাকার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, সেই জটিলতাগুলো দ্রুত সমাধান করে বাকি প্লটগুলোতেও বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা হবে।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বিটিএমসি চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান, প্রকল্প পরিচালক কাজী ফিরোজ হোসেন, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এবং বর্ণালি কালেকশন অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুর রহমান সাব্বিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মন্ত্রীর এই কঠোর বার্তা বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে সহায়তা করবে।

মন্তব্য করুন