প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বার, ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিং আইনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে আদালতে হাজির করা হয়েছে। হাজিরা শেষে কারাগারে নেওয়ার পথে প্রিজনভ্যান থেকে হাতকড়া পরা দুই হাত উঁচিয়ে তিনি বলেন, ‘জং ধরা হ্যান্ডকাফে রক্তাক্ত হাত।’
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে পলকের দুর্নীতি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে এদিন তদন্ত সংস্থা দুদক প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। পরে আদালত আগামী ২৩ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
হাজিরা শেষে আদালতের হাজতখানা থেকে প্রিজনভ্যানে করে কারাগারে নেওয়ার সময় পলক দুই হাত উঁচিয়ে ‘জং ধরা হ্যান্ডকাফে রক্তাক্ত হাত’ বলে অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি ভি চিহ্নও দেখান।
পরে পলকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পলক কারাগারে রয়েছেন। বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে এবং নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। তাকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন আইনজীবী।
তিনি আরও বলেন, ‘জং ধরা হ্যান্ডকাফে রক্তাক্ত হাত’ এ কথা বলে পলক বোঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বিত ঢাকা জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, জুনাইদ আহমেদ পলক অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ আট কোটি ৭৩ লাখ ৪৭ হাজার ৪২ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখলে রেখেছেন।
এ ছাড়া নিজের নামে থাকা ২৫টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৩২ কোটি চার লাখ ৯৫ হাজার ৩১৪ টাকা জমা এবং ২৯ কোটি ৮৪ লাখ ৭২ হাজার ৯৫ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। এসব লেনদেনের মাধ্যমে ঘুষ ও দুর্নীতির অর্থ মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে, সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট পলককে গ্রেফতার করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলাসহ একাধিক মামলায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
মন্তব্য করুন