আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ ঘন্টা আগে, ১১:১৫ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

৯-১১-এর আগেই বিন লাদেনের হামলার তালিকায় ছিল ভারত

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ প্রকাশিত নতুন করে অবমুক্ত করা গোয়েন্দা নথিতে দেখা গেছে, ৯/১১-এর হামলার কয়েক বছর আগে আল-কায়েদার সাবেক নেতা ওসামা বিন লাদেন যেসব দেশে হামলার কথা বিবেচনা করেছিলেন, সেই তালিকায় ভারতের নামও ছিল। ১৯৯৮ সালের ২৮ আগস্টের একটি প্রেসিডেন্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্রিফে ভারতসহ একাধিক দেশের নাম উঠে এসেছে।


৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সিআইএ মোট ৭১টি প্রেসিডেন্টস ডেইলি ব্রিফ (পিডিবি) প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব নথিতে ১০০টিরও বেশি পৃষ্ঠার গোয়েন্দা বিশ্লেষণ রয়েছে এবং এগুলো ৯/১১-এর আগে ও হামলার পরের সময়ের আল-কায়েদা-সংক্রান্ত গোয়েন্দা মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


১৯৯৮ সালের ব্রিফে ভারতের নাম

প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে ‘Bin Ladin Terrorist Network Still a Threat’ শিরোনামের ২৮ আগস্ট ১৯৯৮ সালের ব্রিফে বিন লাদেনের নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য হামলা-সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরা হয়। সেখানে ভারত ছাড়াও পাকিস্তান, মিসর, কুয়েত, সৌদি আরব, ইয়েমেন ও উগান্ডা—এই দেশগুলোর নাম রয়েছে।


তবে নথিতে ভারতের কোনো নির্দিষ্ট স্থাপনা বা লক্ষ্যবস্তুর নাম, সম্ভাব্য হামলার তারিখ কিংবা সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিকল্পনার উল্লেখ নেই। ফলে নথিতে ভারতের নাম থাকা থেকে কোনো নির্দিষ্ট হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।


যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা স্বার্থে হামলার আশঙ্কা

সিআইএর প্রকাশিত নথিগুলোতে দেখা যায়, ১৯৯৮ সাল থেকেই গোয়েন্দা সংস্থাটি বিন লাদেন ও আল-কায়েদার সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য হামলা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের নিয়মিত সতর্ক করে আসছিল। প্রকাশিত সংগ্রহে ১৯৯৮ সালের জুনে ‘Potential Targets for Anti-US Attacks by Bin Ladin’ এবং জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে হামলার পরিকল্পনা-সংক্রান্ত ব্রিফও রয়েছে।


নথিগুলোতে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ায় আল-কায়েদার সাংগঠনিক অবকাঠামোর বিষয়েও গোয়েন্দা মূল্যায়ন ছিল। পাশাপাশি, আফগানিস্তানে অবস্থানরত বিন লাদেন ও তাঁর সহযোগীদের যোগাযোগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছিল।


১৯৯৮ সালের আগস্টে আফগানিস্তানে আল-কায়েদার প্রশিক্ষণ শিবিরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময়ও বিন লাদেনের নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য হামলা সক্ষমতা নিয়ে গোয়েন্দা উদ্বেগ ছিল। একই বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে বিমান ছিনতাইসহ সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে প্রেসিডেন্টের দৈনিক গোয়েন্দা ব্রিফে সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়।


৬০টির বেশি দেশে নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত

প্রকাশিত গোয়েন্দা মূল্যায়নে আল-কায়েদার বিস্তৃত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের কথাও উঠে এসেছে। নথিগুলোতে বিন লাদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে বিভিন্ন দেশে সম্ভাব্য হামলার কাজে ব্যবহার করার সক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়।


সিআইএর নতুন করে প্রকাশ করা নথিগুলো ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সময়কে কাভার করেছে। এতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও জর্জ ডব্লিউ বুশ—দুই প্রশাসনের সময়কার গোয়েন্দা ব্রিফ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


সিআইএ বলেছে, ৭১টি নথি প্রকাশের উদ্যোগটি ৯/১১-সংক্রান্ত প্রেসিডেন্টস ডেইলি ব্রিফের ক্ষেত্রে সংস্থাটির সবচেয়ে বড় অবমুক্তি। এর মাধ্যমে ৯/১১-এর আগে আল-কায়েদার হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষণ কীভাবে বিকশিত হয়েছিল, তার আরও বিস্তৃত চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।


৯/১১ হামলা

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার ১৯ সদস্য চারটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ছিনতাই করে। এর মধ্যে দুটি উড়োজাহাজ নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে। তৃতীয় উড়োজাহাজটি পেন্টাগনে আঘাত করে। চতুর্থ উড়োজাহাজটি ওয়াশিংটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে এগোচ্ছিল বলে ধারণা করা হয়; যাত্রীদের প্রতিরোধের পর সেটি পেনসিলভানিয়ায় বিধ্বস্ত হয়।


পরবর্তী সময়ে ৯/১১ হামলার তদন্ত ও বিভিন্ন সরকারি নথি থেকে স্পষ্ট হয় যে, হামলার আগে আল-কায়েদার হুমকি সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একাধিক সতর্কবার্তা পেয়েছিল। নতুন করে প্রকাশিত পিডিবিগুলো সেই গোয়েন্দা মূল্যায়নের আরও কিছু অংশ জনসমক্ষে এনেছে।

মন্তব্য করুন