প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১১:৩৭ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
পর্দার নায়িকারা মানেই সবসময় পরিপাটি, গ্ল্যামারাস এবং নিখুঁত— সাধারণ দর্শকদের এই চিরাচরিত ধারণা ভেঙে দিলেন বলিউড অভিনেত্রী আদাহ শর্মা। অক্ষয় কুমার ও ইমরান হাশমি অভিনীত ‘সেলফি’ সিনেমার একটি কমেডি দৃশ্যে আদাহ শর্মাকে ‘বায়ুত্যাগ’ বা পাদতে দেখা যায়। সাধারণ একটি হাস্যরসাত্মক দৃশ্য হলেও এটি নিয়ে নেটপাড়ায় শুরু হয় তীব্র সমালোচনা ও নীতিপুলিশদের আক্রমণ। তবে দমে না গিয়ে সপাট জবাবে ট্রলারদের মুখ বন্ধ করেছেন অভিনেত্রী।
সামাজিক মাধ্যমে আক্রমণের মুখে পড়ে আদাহ শর্মা একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তিনি অত্যন্ত সহজভাবে বোঝান যে, বায়ুত্যাগ করা কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং এটি একটি অতি সাধারণ শারীরিক প্রক্রিয়া। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বৃহদান্ত্রে খাবার হজম হওয়ার সময় মিথেন, হাইড্রোজেন এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাস তৈরি হয়, যা স্বাভাবিক নিয়মেই নির্গত হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “পুরুষরা হিরো বলে যা খুশি করতে পারেন, কিন্তু মেয়েরা পাদলে দোষ?”
আদাহ আরও জানান, একজন সুস্থ মানুষ দিনে গড়ে ১০-১২ বার বায়ুত্যাগ করতে পারেন। তিনি মনে করেন, এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে জেন্ডার, বর্ণ, ধর্ম বা জাত দেখে বৈষম্য করা উচিত নয়। এর আগেও এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন যে, শুটিং সেটে অনস্ক্রিন এবং অফস্ক্রিন— উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর এমন অভিজ্ঞত আছে এবং তিনি বিষয়টিকে খুব স্বাভাবিকভাবেই দেখেন।
সামাজিক মাধ্যমে এক নেটিজেন মন্তব্য করেন, “আপনি দেখতে খুব সুন্দর; কিন্তু অক্ষয় কুমারের সামনে ওই কাজটা করলেন? খুব ঘেন্না করছে আমার।” এই মন্তব্যের জবাবে কোনো রাগ না দেখিয়ে বরং এক চিমটি রসিকতা আর বিজ্ঞানের মিশেলে আদাহ ক্যাপশন লিখেছেন, “আমি কেন সঠিকভাবে গন্ধযুক্ত পাদলাম?”
আদাহ শর্মার এই স্পষ্টবাদী ও সাহসী অবস্থানে মুগ্ধ হয়েছেন নেটিজেনদের বড় একটি অংশ। অনেকেই বলছেন, সস্তা ট্রলিংয়ের বিপরীতে এমন যুক্তিপূর্ণ ও মজাদার জবাব সত্যিই প্রশংসনীয়। সচরাচর নায়িকারা যেখানে নিজেদের ইমেজ নিয়ে অতি-সচেতন থাকেন, সেখানে আদাহর এই ‘সৎ সাহস’ এখন সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মন্তব্য করুন