আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:০৭ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর, '‘সমুদ্র আধিপত্যের’' দাবি সেন্টকমের

ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ নৌ অবরোধ কার্যকর করার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথগুলোতে নিজেদের ‘সমুদ্র আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সেন্টকম কমান্ডার ব্র্যাড কুপার জানান, অবরোধ শুরুর মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন বাহিনী ইরানের সব বন্দরগামী ও বহির্গামী সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যত অচল করে দিতে সক্ষম হয়েছে।

কমান্ডার ব্র্যাড কুপার বলেন, “ইরানের অর্থনীতির প্রায় ৯০ শতাংশ সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা দেশটিতে পণ্য প্রবেশ ও বের হওয়ার সব পথ বন্ধ করে দিয়েছি।” সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলো সক্রিয়ভাবে এই অভিযান পরিচালনা করছে এবং ইরানের বন্দর বা উপকূলীয় এলাকায় আসা-যাওয়া করা যেকোনো দেশের জাহাজের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম সমানভাবে কার্যকর করা হচ্ছে।

সেন্টকম জানিয়েছে, এই বিশাল অবরোধ অভিযানে ১০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা—যাদের মধ্যে নৌসেনা, মেরিন ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন—সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। অভিযানের শক্তি বাড়াতে এক ডজনেরও বেশি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ এবং বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি ডেস্ট্রয়ারে ৩০০ জনের বেশি উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নাবিক রয়েছেন, যারা যেকোনো ধরনের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম।

সেন্টকমের তথ্যমতে, অভিযান শুরুর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ মার্কিন এই কঠোর অবরোধ ভাঙতে পারেনি। একই সময়ে ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ মার্কিন নৌবাহিনীর নির্দেশনা মেনে গতিপথ পরিবর্তন করে এবং ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানি বন্দরে পুনরায় ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এই অবরোধ মূলত পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগর সংলগ্ন ইরানের সব বন্দরে কার্যকর করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানি বন্দরগুলোর জন্য পথ বন্ধ থাকলেও অ-ইরানি বন্দরগুলোতে যাওয়ার জন্য অন্যান্য দেশের জাহাজগুলো যাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারে, মার্কিন বাহিনী সে বিষয়ে সহায়তা দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই চরম পদক্ষেপ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনাকে এক নতুন ও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এমন অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তেহরান এখন পর্যন্ত এই অবরোধের বিষয়ে তাদের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া স্পষ্টভাবে জানায়নি।

মন্তব্য করুন