তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ৭ মে, ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

দুই মাস কারাভোগ শেষে ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে গ্রেফতার ইমি কারামুক্ত

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়েছেন শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি

সেদিন শুধু একটি ভাষণ বাজাতে চেয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই তাকে টেনে নিয়ে গেল মারধর, হেনস্তা আর কারাগারের দিকে। প্রায় দুই মাস পর অবশেষে মুক্তির আলো দেখলেন 'স্লোগান ৭১'-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি।

বৃহস্পতিবার (৭মে) বেলা পৌনে ৩টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার মোছা. কাওয়ালিন নাহার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট জামিন মঞ্জুর করলে জামিনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আজ তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার শুরু ৭ মার্চ রাতে। চানখাঁরপুল মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোর সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসিফ আহমেদ ও একজন মাইক অপারেটরকে আটক করা হয়। সেই আটকের প্রতিবাদেই রিকশায় মাইকে ভাষণ বাজানোর কর্মসূচি দেন ইমিসহ কয়েকজন। রাত সাড়ে ৯টায় কর্মসূচি শুরু হতে না হতেই রাত ১০টার দিকে একদল লোক এসে মাইক ও ব্যাটারি ভেঙে ফেলে। বাধা দিতে গেলে হাতাহাতি বাধে।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন ডাকসু ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। এরপর ইমি ও তার সঙ্গী মামুনকে টেনে-হিঁচড়ে শাহবাগ থানায় নিয়ে মারধর করা হয় এবং পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

পরদিন ৮ মার্চ তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে শাহবাগ থানা পুলিশ। মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামিরা 'মসজিদের দিকে মুখ করে লাউড স্পিকারে উস্কানিমূলক স্লোগান দেন'। তারা 'সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের' উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কার্যক্রম 'সচল' করার চেষ্টা করেন। এ ছাড়া পুলিশের কাজে বাধা ও থানা হেফাজত থেকে আসিফ আহমেদকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়।

ডাকসু নির্বাচনে বাম সংগঠনগুলোর 'প্রতিরোধ পর্ষদ' প্যানেলের সাবেক ভিপি প্রার্থী ইমি সেদিন যা করতে চেয়েছিলেন তা ছিল নিতান্তই সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ। কিন্তু সেই প্রতিবাদের মূল্য দিতে হলো দীর্ঘ দুই মাসের কারাজীবনের মাধ্যমে।

মন্তব্য করুন