তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৮ ঘন্টা আগে, ০৬:১৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় ক্ষুব্ধ সোহেল তাজ, বললেন ‘গ্যাসলাইটিং ও প্রজেকশন’

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। তিনি দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ প্রতিক্রিয়া জানান সোহেল তাজ। সেখানে তিনি ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমালোচনা করেন।

তিনি লিখেছেন, ‘নিউজে প্রফেসর ইউনূসকে নিউ ইয়র্কের জেএফকে এয়ারপোর্টে হেনস্তা করার ভিডিও দেখে হতবাক হয়ে গেলাম। কতটুক নির্লজ্জ বেহায়া হলে নিজেরাই যেই গণহত্যা, গুম, খুন, দুর্নীতি করেছে, গণতন্ত্রকে কবর দিয়ে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল; তারাই এখন সেই দায় আরেকজনের উপর চাপানোর চেষ্টা করছে। এটাই হচ্ছে সাবেক স্বৈরাচার পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাদুর ট্যাবলেট, এই ট্যাবলেট খেয়ে এদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে।’

সোহেল তাজের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের আচরণকে মনোবিজ্ঞানীরা ‘গ্যাসলাইটিং’ ও ‘প্রজেকশন’—এই দুই শ্রেণিতে ব্যাখ্যা করেন।

গ্যাসলাইটিং হলো এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিস্তার ও মানসিক নির্যাতন। এতে একজন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে অন্য কাউকে মিথ্যা তথ্য দেন বা ঘটে যাওয়া ঘটনা অস্বীকার করেন। ফলে ভুক্তভোগী নিজের স্মৃতি, উপলব্ধি, বিচারবুদ্ধি কিংবা মানসিক সুস্থতা নিয়েই সন্দেহ করতে শুরু করতে পারেন।

অন্যদিকে, মনস্তাত্ত্বিক প্রজেকশন হলো আত্মরক্ষার একটি মানসিক প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি নিজের অবাঞ্ছিত বা অগ্রহণযোগ্য চিন্তা, অনুভূতি, উদ্দেশ্য কিংবা অনিরাপত্তা অন্যের ওপর আরোপ করেন।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার (১২ অক্টোবর) নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লবি দিয়ে যাওয়ার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কয়েকজন ব্যক্তি ড. ইউনূসকে উদ্দেশ করে চিৎকার ও কটূক্তি করেন। তখন তিনি হুইলচেয়ারে ছিলেন।

এ সময় ওই ব্যক্তিদের কয়েকজন বাংলাদেশে গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁকে নানা প্রশ্ন করেন এবং ‘Why you come here...’ (আপনি কেন এখানে এসেছেন...)-সহ বিভিন্ন মন্তব্য করেন।

পরিস্থিতি বিবেচনায় ড. ইউনূসের সঙ্গীরা তাঁকে দ্রুত নিরাপদ অবস্থানে বিমানবন্দরের ভেতরে নিয়ে যান। ঘটনাটি নিয়ে দেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

মন্তব্য করুন