প্রকাশিত: ৮ ঘন্টা আগে, ০৬:১৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) গাজীপুর সার্কেলে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, গ্রাহক হয়রানি ও ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দালালদের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও করা হয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. আবুল হোসেন।
লিখিত অভিযোগে গাজীপুর বিআরটিএ সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফিটনেস, মালিকানা পরিবর্তন, রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে।
অভিযোগে কথিত দালাল বাদশা ও আফজালের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে গাড়ি আটকে প্রতি গাড়ি থেকে প্রায় দুই হাজার টাকা করে আদায় এবং পরে ফিটনেস দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। মালিকানা পরিবর্তন ও রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন কাজে দালালদের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারী দাবি করেন, কয়েকদিন আগে বাদশা ও আফজালের মাধ্যমে সংবাদকর্মীদের গাড়ি আটকের ঘটনাও ঘটে। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গাড়ি হাজির করার সময় বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, কথিত দালাল বাদশা গাজীপুর বিআরটিএর কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর হয়ে অর্থ সংগ্রহ করেন। এর আগে গাজীপুর বিআরটিএর উচ্চমান সহকারী শাহ আলমের সঙ্গে বাদশার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। শাহ আলমকে পরবর্তীতে মানিকগঞ্জ বিআরটিএতে বদলি করা হলেও দালালচক্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগকারীর দাবি।
এদিকে গাজীপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মো. নুরুল হোসেনের বিরুদ্ধেও দালাল সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ করা হয়েছে। দালালদের মাধ্যমে ঘুষ ও বিভিন্ন অনিয়মের লেনদেনে তার ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারী মো. আবুল হোসেন বলেন, বিআরটিএতে সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ যেন দালালদের মাধ্যমে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য না হন, সেজন্য অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তবে মোটরযান পরিদর্শক মহিউদ্দিন ও সহকারী পরিচালক মো. নুরুল হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং দায় নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মন্তব্য করুন