প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বার, ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে প্রসিকিউশনের একটি প্রশ্নে আপত্তি জানিয়ে চেঁচামেচি ও বাকবিতণ্ডায় জড়ানোর চেষ্টা করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম—এমন অভিযোগ করেছেন প্রসিকিউটররা। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেও তিনি দুর্ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।
তিনি বলেন, সাক্ষ্যগ্রহণের একপর্যায়ে প্রসিকিউটরের করা একটি প্রশ্নকে অবৈধ দাবি করে কাঠগড়ায় বসেই আপত্তি জানান কামরুল ইসলাম। এ সময় তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি করেন এবং বাকবিতণ্ডায় জড়ানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন প্রসিকিউশন।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে সোমবার চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন জুলাইযোদ্ধা মো. হান্নান মিয়া। ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের প্যানেলে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, সাক্ষীর জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগের নেতারা কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। তখন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ ওই নেতারা কারা, তা জানতে চান। এ প্রশ্নের বিরোধিতা করে কামরুল ইসলাম সেটিকে অবৈধ প্রশ্ন বলে দাবি করেন।
পরে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নজরে আনা হলে আদালত প্রশ্নটিকে বৈধ বলে অনুমোদন দেন বলে জানান মিজানুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রসিকিউশনের দায়িত্ব হলো আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করা। সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা প্রসিকিউটরের এখতিয়ার।
মিজানুল ইসলাম আরও বলেন, কামরুল ইসলাম নিজেকে ৪০ বছরের অভিজ্ঞ আইনজীবী দাবি করলেও ওই প্রশ্নে কোনো অবৈধতা ছিল না। ট্রাইব্যুনালও শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি বৈধ বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
এদিকে কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন প্রসিকিউটররা। মিজানুল ইসলাম বলেন, সোমবারের ঘটনার পর তারা জানতে পারেন, রক্ষীদের সঙ্গেও কামরুল ইসলাম খারাপ আচরণ করেছেন। এ ধরনের আচরণ তারা মাঝেমধ্যে দেখতে পান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, এর আগেও কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে থাকা কাঠগড়ায় আনা-নেওয়ার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তিনি প্রায়ই দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাই তাদের বিষয়টি জানিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
মন্তব্য করুন