প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:৫৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিন প্রাঙ্গণে বুধবার (১০ জুন) বিকেলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘গণভোটে হ্যাঁ ফোরাম’ নামক একটি নতুন মঞ্চ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) party। ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান, সনদ ও গণভোটের রায়; রাজবন্দীদের অভিজ্ঞতা ও জবানবন্দি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এই ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ আয়োজিত এই সভায় দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু দাবি করেন, দেশের প্রায় ৭০ ভাগ ভোটার জুলাই সনদের পক্ষে তাদের রায় দিয়েছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করেই জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে মজিবুর রহমান বলেন, "জুলাই অভ্যুত্থানের পর আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। আমরা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, এ স্বপ্ন কোনোভাবেই বৃথা যাবে না। আওয়ামী লীগের নিপীড়ন আমাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল। এখন ফ্যাসিবাদীরা নেই বলে আমরা কেউ ক্ষমতায়, কেউ বিরোধী দলে।"
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীতি ও কার্যক্রমের সমালোচনা করে দলটির চেয়ারম্যান আরও বলেন, "আমাদের কাছে মনে হচ্ছে যাঁরা সরকারে আছেন, তাঁরা মূল লক্ষ্য থেকে সরে যাচ্ছেন। আবার তাঁরা মনে করছেন, আমরা কেবল তাঁদের খারাপ দিক দেখছি, অযথা সমলোচনা করছি।" এই ধরনের মতপার্থক্যকে একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট করেন যে, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নই এখন তাদের প্রধান দাবি। একই সঙ্গে তিনি জনগণের ম্যান্ডেট বা রায়ের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
উক্ত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর নির্মম নির্যাতন ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর জবানবন্দি আদায়ের অপচেষ্টার বিবরণ দিয়ে সারজিস আলম বলেন, "জুলাই গণ–অভ্যুত্থান চলাকালে স্বৈরাচারী সরকার ডিজিএফআইয়ের মাধ্যমে আমাকে ও হাসনাতকে (কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য) তুলে নিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগ এবং হুমকি দেয়। জোর করে নেওয়া বক্তব্য কাট–কপি করে মিডিয়াগুলোতে (সংবাদমাধ্যম) প্রচার করা হয়। তবে বাংলাদেশপন্থী কিছু সাংবাদিক আমাদের মূল বক্তব্য আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোতে তুলে ধরেন।" জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে তিনি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও সংগ্রামের এক অবিচ্ছেদ্য প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান। রাষ্ট্র সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, "জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া গণ–অভ্যুত্থানের লক্ষ্য পূরণ হবে না। বিএনপি আগের স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের পদাঙ্ক অনুসরণ করছে। কেবল জুলাই সনদই পারে বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে। সরকার হিসেবে বিএনপিকেই জনগণের ভোট ও মতামতের প্রতিফলন ঘটিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।"
সভায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে বলেন, "শহীদ, আহত ও রাজবন্দীদের আত্মত্যাগকে শুধু স্মরণ করলেই চলবে না, তাঁদের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।" অন্যদিকে, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মাসুদ রানা জুয়েল রাজবন্দীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, "ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের ইতিহাস কোনোভাবেই বিস্মৃত হওয়ার নয়। এখনো জুলাইয়ের রাজবন্দীদের স্বীকৃতি ও তাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।"
ছাত্রপক্ষের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আকিব হাসান, জুলাই রেভোল্যুশন অ্যালায়েন্সের সহসভাপতি আহমেদ সামরান এবং জুলাই রাজবন্দী অ্যালায়েন্সের মুখ্য সংগঠক অর্ণব হুসাইনের পরিচালনায় সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নিয়ে রাজবন্দীদের অভিজ্ঞতা ও তাদের অধিকারের পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন