স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ৮ মিনিট আগে, ০৩:১৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

টেন্ডার বাণিজ্য: সওজ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানের শতকোটির অনিয়ম

ছবি: সংগৃহীত

​সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে টেন্ডার কারচুপি, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং পদমর্যাদার অপব্যবহার করে বিপুল সম্পত্তি অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জালিয়াতি, ভুয়া বিল পাস এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
​সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের বিস্তারিত উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন মো. আব্দুল হান্নান নামে সওজের এক ভুক্তভোগী ঠিকাদার। অভিযোগে তিনি মনিরুজ্জামানের দুর্নীতি তদন্ত ও দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানান। ​বিভিন্ন কর্মস্থলে অনিয়মের চিত্র
​দুদকে জমা দেওয়া আবেদনে মনিরুজ্জামানের পূর্বের কর্মস্থলগুলোর নানা অনিয়ম তুলে ধরা হয়:

​কক্সবাজার সড়ক বিভাগ:
নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিক বাড়িয়ে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার অনিয়ম করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, উপকূলীয় ও পর্যটন এলাকার রাস্তা সংস্করণের নামে কাজ না করেই অর্থ উত্তোলন করা হতো।

রাজশাহী জোন:
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থাকাকালে মাত্র ৪–৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে তিনি নিজস্ব সিন্ডিকেট তৈরি করেন। কমিশনের টাকা নিশ্চিত না হলে অন্য কোনো ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হতো না বলে সাধারণ ঠিকাদারদের দাবি।
​মুন্সিগঞ্জ সড়ক বিভাগ: সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের নামে কোটি কোটি টাকা তুলে নেওয়া হলেও কাজের মান ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। ফলে বর্ষার শুরুতেই রাস্তাগুলোতে বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হয়ে তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ত।

​রংপুর জোন: 
অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী থাকাকালীন 'আমিনুল ইসলাম কনস্ট্রাকশন'সহ কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকারি ক্রয় বিধিমালা (PPR) লঙ্ঘন করে দরপত্রের শর্ত পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

​বর্তমান পদ ও কমিশনের অভিযোগ:
​বর্তমানে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন প্রকল্পের কারিগরি ও প্রশাসনিক ফাইল অনুমোদনে তিনি ৫ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সওজের একাধিক কর্মকর্তা জানান, মনিরুজ্জামানের মতো কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেট ও অবৈধ অর্থের প্রভাবের কারণে পুরো অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

​টিআইবির বক্তব্য:
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত ১৫ বছরে সওজের উন্নয়ন প্রকল্পের ২৩ থেকে ৪০ শতাংশ অর্থ (প্রায় ২৯,২৩০ থেকে ৫০,৮৩৫ কোটি টাকা) অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে লোপাট হয়েছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে শতকোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে দুদকের মাধ্যমে তার দেশ-বিদেশের সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

​দুদক ও অভিযুক্তের অবস্থান:
​দুদকের একজন কর্মকর্তা জানান, মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে এবং শিগগিরই একজন অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করা হবে।
​এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. মনিরুজ্জামানের ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরবর্তীতে তিনি প্রতিবেদকের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটি ব্লক করে দেন। এছাড়া সওজের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন